হরমুজ প্রণালিতে টোল নেবে ইরান ও ওমান, শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র

তেহরান, ৮ এপ্রিল – যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তবে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে ট্রানজিট ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে ইরান ও ওমান।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুই সপ্তাহ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর নির্দিষ্ট হারে ফি আরোপের বিষয়ে একমত হয়েছে তেহরান ও মাসকাট। সংগৃহীত অর্থ যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে। প্রতিটি জাহাজ থেকে ইরান ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি দাবি করছে বলে জানা গেছে। তবে কোনো জাহাজ কোম্পানি এখন পর্যন্ত এই বিপুল অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই রুটে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ ছিল। যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় বর্তমানে মাত্র ৫ শতাংশ জাহাজ চলাচল করছে। যদিও পাকিস্তান ও ভারত বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।
বুধবার এক বিবৃতিতে তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে তারা সমর্থন করে। তবে ইরানকে অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে এবং ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ অন্য দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে। ইসরায়েলের এই বক্তব্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, কারণ তিনি জানিয়েছিলেন চুক্তিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেননি।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর হোয়াইট হাউস একে নিজেদের বিজয় বলে দাবি করেছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি বড় বিজয়। তার উদ্যোগেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
লেভিট আরও উল্লেখ করেন, অপারেশন এপিক ফিউরি নামের এই সামরিক অভিযান মাত্র ৩৮ দিনেই মূল লক্ষ্য অর্জন করেছে। মার্কিন বাহিনীর এই সাফল্য শক্তিশালী কূটনৈতিক সমাধান ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ প্রশস্ত করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এনএন/ ৮ এপ্রিল ২০২৬









