জাতীয়

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় নিয়োগের সমালোচনা করলেন রুমিন ফারহানা

ঢাকা, ৭ এপ্রিল – বাংলাদেশ ব্যাংক ও দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ তুলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া দুই আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই অভিযোগ করেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রিন্সটন বা ক্যালিফোর্নিয়ার মতো বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডিধারী অভিজ্ঞদের নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন সদস্য, যিনি একটি সোয়েটার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

এছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও দলীয় বিবেচনায় উপাচার্য ও উপউপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি গভর্নরের পদ থেকে আহসান মনসুরকে সরিয়ে দেয় বর্তমান সরকার। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয় মো. মোস্তাকুর রহমানকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন।

অন্যদিকে গত ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান পদে রদবদল আনা হয়। নতুন উপাচার্যদের কয়েকজনের সঙ্গে দলীয় সংগঠনের সম্পৃক্ততার খবর গণমাধ্যমে এসেছে।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য মূল্যস্ফীতি, অর্থনীতি, দলীয় নিয়োগ, গণতন্ত্র ও জুলাই আন্দোলন নিয়ে কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, অতীতে সব সময় এই ভারসাম্যের কথা বলা হলেও তা বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না। তিনি প্রত্যাশা করেছিলেন, রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদিত ভাষণের বাইরে নিজের মতো করে কিছু বলবেন, কিন্তু তা হয়নি।

নিজ দল থেকে মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়েও কথা বলেন এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য। তিনি জানান, দলীয় গণ্ডির বাইরে নির্বাচন করায় তিনি সাধারণ মানুষের বিপুল সমর্থন বুঝতে পেরেছেন।

এছাড়া জুলাই আন্দোলনে নারীদের অগ্রণী ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সংকটকালে নারীরা ঢাল হয়ে দাঁড়ালেও পরিস্থিতি শান্ত হলে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না।

সংসদে চাঁদপুর দুই আসনের সদস্য মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন মূল্যস্ফীতিকে বড় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেন। সাতক্ষীরা চার আসনের সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানান। মুন্সিগঞ্জ তিন আসনের সদস্য কামরুজ্জামান রতন রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগ তুলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তদন্ত চান।

এছাড়া মানিকগঞ্জ এক আসনের সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর, গাজীপুর চার আসনের সদস্য সালাহউদ্দিন আইউবী এবং কুমিল্লা নয় আসনের সদস্য মোঃ আবুল কালাম নিজ নিজ বক্তব্যে দেশের চলমান নানা সংকট, অর্থপাচার ও নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন।

এনএন/ ৭ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language