মধ্যপ্রাচ্য

ট্রাম্পের চরম হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ ছিন্ন করল ইরান

তেহরান, ৭ এপ্রিল – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পুরো সভ্যতাকে ধ্বংস করার হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করেছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান ৩৮ দিনের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি।

মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

ট্রাম্পের দেওয়া চূড়ান্ত সময়সীমা শেষ হতে যখন আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি, ঠিক তখনই এই প্রতিবেদনটি সামনে এলো।

একই সময়ে তেহরান, কোম, ইসফাহান, খোররামাবাদ এবং শিরাজসহ ইরানের বেশ কয়েকটি প্রধান শহরে মঙ্গলবার ব্যাপক বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরানের অন্তত আটটি সেতু ধ্বংস করেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুযুধান দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি কূটনীতি বন্ধ হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা আর নেই।

গত সপ্তাহে পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় চালু হওয়া একটি গোপন চ্যানেলের মাধ্যমে কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজিবাহী দুটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছিল। যুদ্ধের এমন চরম উত্তেজনার মাঝেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল এই চ্যানেলটি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, এখন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে আলাপ আলোচনার যেটুকু সুযোগ ছিল, সেটিও বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান।

মার্কিন এই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাম্পের সময়সীমা শেষ হওয়ার রাতে আলোচনার চেষ্টা না করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের এই সিদ্ধান্ত ইরানের একটি সুস্পষ্ট সামরিক বার্তা। বোমা হামলা ও বন্দুকের নলের মুখে তেহরান যে কোনো শর্ত মেনে নেবে না, এটি তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত। এর ফলে যুদ্ধবিরতির যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরুর চেষ্টা চলছিল, তা আপাতত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের আল্টিমেটামের জেরে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মধ্যপ্রাচ্যের একজন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন।

এনএন/ ৭ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language