সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন কারাগারে, রিমান্ড শেষে আদালতে বিশৃঙ্খলা

ঢাকা, ৭ এপ্রিল – ঢাকার আদালতে রিমান্ড শুনানি শেষে হাজতখানায় নেওয়ার সময় আইনজীবীদের হট্টগোলের মধ্যে সিঁড়িতে পড়ে যান সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।
মঙ্গলবার দুপুরে মহানগর হাকিম আদালতের সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যও পড়ে যান এবং ব্যথায় চিৎকার করে উঠলে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাকে তুলে নেন।
এর আগে একই দিন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের সময় আজিমপুর এলাকায় আশরাফুল নামের এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে তাকে হাজতখানায় নেওয়া হয় এবং বিকেল সোয়া ৩টার দিকে এজলাসে তোলা হয়। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তাকে ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ইবনুল কাওসার এবং এ বি এম হামিদুল মেজবাহ রিমান্ড বাতিল চেয়ে বলেন স্পিকার হিসেবে তিনি নিরপেক্ষ অবস্থানে ছিলেন এবং ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন আবেদন উভয়ই নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে তাকে পুনরায় হাজতখানায় নেওয়া হলে উপস্থিত আইনজীবীদের মধ্যে স্লোগান পাল্টা স্লোগান শুরু হয়। এতে আদালতকক্ষে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
হট্টগোলের একপর্যায়ে বিচারক সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের এজলাস থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০১৩ সালে দেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং টানা তিন মেয়াদে এই পদে বহাল ছিলেন।
এনএন/ ৭ এপ্রিল ২০২৬









