ট্রাম্পের আল্টিমেটাম ও হরমুজ প্রণালি সংকট: বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা

তেহরান, ৭ এপ্রিল – মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কায় বিশ্ববাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে জ্বালানি তেলের দাম। হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আল্টিমেটাম দেওয়ার পর এই অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১১০ দশমিক ৩৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই তেলের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৬৭ ডলারে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি বন্ধ করে দেয়। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে আসা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
তাদের দাবি, কোনো সাময়িক বিরতি নয় বরং যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানিয়েছেন, তেলের বাজারে এখন মৌলিক চাহিদার চেয়ে ট্রাম্পের আল্টিমেটামের সময়সীমা অনেক বেশি প্রভাব ফেলছে। সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তা তেলের দামকে ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী রাখছে।
ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মঙ্গলবারের মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে তেহরানের ওপর নরক নেমে আসবে।
তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মানবে না এবং স্থায়ী সমাধান ছাড়া প্রণালি খুলবে না। একই সঙ্গে কোনো সময়সীমা চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপের শোধনাগারগুলো বিকল্প উৎস খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের স্পট প্রিমিয়াম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি সৌদি আরামকো মে মাসের জন্য তাদের আরব লাইট ক্রুডের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়িয়েছে, যা ওমান ও দুবাই গড়ের চেয়ে ব্যারেল প্রতি ১৯ দশমিক ৫০ ডলার বেশি। আবার রাশিয়া জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় ড্রোন কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে ক্যাসপিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়ামের টার্মিনালে হামলা চালিয়েছে। এই টার্মিনালটি বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ পরিচালনা করে থাকে।
অন্যদিকে ওপেক প্লাস মে মাসে দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার কারণে বাস্তবে সরবরাহ বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি এভাবেই অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও গভীর হতে পারে।
এনএন/ ৭ এপ্রিল ২০২৬









