জাতীয়

কর্মী নিয়োগ চালুর লক্ষ্যে ৮ এপ্রিল মালয়েশিয়া যাচ্ছেন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা

ঢাকা, ৭ এপ্রিল – প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন আগামী ৮ এপ্রিল মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন। আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত তারা দেশটিতে অবস্থান করবেন।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর আমন্ত্রণে আয়োজিত এই সফরে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে পুনরায় সাধারণ কর্মী নিয়োগ চালুর বিষয়টি প্রধান আলোচ্যসূচি হিসেবে প্রাধান্য পাবে।

মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসন বিভাগ থেকে এই সফরের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সফরকে কর্তব্যরত সময় হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং এর যাবতীয় ব্যয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বহন করবে।

প্রায় দুই বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় সাধারণ কর্মী নিয়োগ বন্ধ রয়েছে, যদিও নেপালসহ অন্যান্য দেশ থেকে দেশটিতে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু আছে। আসন্ন এই সফরকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দেশীয় রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি একটি ফোরাম জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করে অতীতের সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে এবং নতুন কোনো সিন্ডিকেট তৈরি না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে।

এর আগে অন্য একটি সংগঠন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বা বিএমইটি ঘেরাও করে একই দাবি জানিয়েছিল।

অতীতে মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশের বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই করার ক্ষেত্রে ১০টি শর্ত আরোপ করলে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট দেশের এজেন্সিগুলো এই শর্তগুলোর বিষয়ে আপত্তি তুলেছিল। পরবর্তীতে তৎকালীন সরকার মালয়েশিয়ার শর্ত মেনে এজেন্সির তালিকা পাঠালেও তার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

২০২৪ সালের ১ জুন থেকে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া সরকার। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে অনেক কর্মী বিদেশে যেতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। রিক্রুটিং এজেন্টরা নির্ধারিত ৭৯ হাজার টাকা ফেরত দিলেও অনেক কর্মী অভিযোগ করেন যে তারা মোট ব্যয়ের পুরো অর্থ পাননি।

রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর তথ্য অনুসারে, এই কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এই সংক্রান্ত একাধিক মামলা বর্তমানে পুলিশ, সিআইডি, দুদক এবং আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্র থেকে জানা যায়, মানবপাচার ও অর্থপাচার সংক্রান্ত অভিযোগে মালয়েশিয়ার নাম জড়ানোর কারণে দেশটি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। ২০২৩ সালে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দুই দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতির অভিযোগও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। তবে মালয়েশিয়া সরকার তাদের দেশে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি বলে দৃঢ়ভাবে দাবি করে আসছে।

এনএন/ ৭ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language