ছেলে সন্তানের আশায় দুই কন্যাশিশুকে হত্যা, বাবা ও স্বজনরা গ্রেফতার

নয়াদিল্লি, ৬ এপ্রিল – ভারতে কেবল ছেলে সন্তানের আকাঙ্ক্ষায় চার বছর বয়সী জমজ দুই কন্যাশিশুকে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তেলেঙ্গানা রাজ্যের জুবিলি নগর গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে শিশুদের বাবা শ্রীশৈলম, তার বাবা অশোক, মা লাবণ্য এবং ছোট ভাই রাকেশ পরিকল্পিতভাবে এই দুই শিশুকে হত্যা করেছেন। পরিবারের ধারণা ছিল মেয়েরা ভবিষ্যতে তাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
করিমনগর রুরাল সার্কেল পরিদর্শক এ নিরঞ্জন রেড্ডি জানান শ্রীশৈলম কখনোই কন্যাসন্তান চাইতেন না। স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় জমজ মেয়ে হওয়ার কথা জানতে পেরে তিনি গর্ভপাতের জন্যও চাপ দিয়েছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায় ২০২০ সালে শ্রীশৈলমের সঙ্গে মৌনিকার বিয়ে হয় এবং ২০২২ সালে তাদের ঘরে জমজ কন্যাশিশুর জন্ম হয়। কিন্তু জন্মের পর তিনি হাসপাতালে সন্তানদের দেখতেও যাননি। পরিবারের অন্য সদস্যরাও কন্যাশিশুদের জন্ম মেনে নিতে পারেননি।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন প্রায় দুই কোটি রুপির সম্পত্তি মেয়েদের বিয়েতে খরচ হয়ে যাবে এই আশঙ্কা থেকে তারা হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী ঘটনার চারদিন আগে থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ৩ এপ্রিল দুপুরে শ্রীশৈলম স্ত্রীকে বাড়িতে মাংস রান্না করতে বলে দুই শিশুকে নিয়ে পারিবারিক কৃষিজমিতে যান। সেখানে শিশুদের কুয়োর পাশে বসিয়ে রেখে প্রথমে গীতানভিকা নামের এক কন্যাকে কুয়োয় ফেলে দেন এবং সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। দ্বিতীয় কন্যা গীথামশি পানিতে বাঁচার চেষ্টা করলে শ্রীশৈলম নিজেই কুয়োয় নেমে তাকে চুবিয়ে হত্যা করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান এটি অত্যন্ত নির্মম ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল। হত্যার পর শ্রীশৈলম ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করেন এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন।
স্ত্রী মৌনিকা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক শিশুকে পড়ে থাকতে দেখেন এবং স্থানীয়রা অপরজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। তবে শ্রীশৈলমের বক্তব্যে অসংগতি থাকায় গ্রামবাসীদের সন্দেহ হয়। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা তাকে মারধর করলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর শ্রীশৈলম সেখান থেকে পালিয়ে গোপালপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। অবশেষে পুলিশ গোপালপুর থেকে চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে এবং বিশেষজ্ঞ সাঁতারুদের সাহায্যে দ্বিতীয় শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের পক্ষ থেকে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার কথা জানানো হয়েছে।
এনএন/ ৬ এপ্রিল ২০২৬









