তনু হত্যা মামলার তদন্তে তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তার ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ আদালতের

কুমিল্লা, ৬ এপ্রিল – কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার দীর্ঘ সময় পর তিন সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হক এই আদেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই ঢাকার পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ডিএনএ পরীক্ষার আদেশ পাওয়া ওই তিন ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে তারা সবাই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
সম্প্রতি কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে চেয়ে পিবিআইকে চিঠি দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করেন। শুনানি শেষে বিচারক সন্দেহভাজন ওই তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম জানান, আগেই তনুর ব্যবহৃত কিছু কাপড় থেকে তিন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো পরে আর মেলানো হয়নি। এ কারণে আদালত সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। তারা এরই মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গেছেন। আদালত আগামী ধার্য তারিখে তদন্তের অগ্রগতি জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতে উপস্থিত তনুর বাবা ইয়ার হোসেন হতাশা প্রকাশ করে জানান, গত এক দশক ধরে বিচারের আশায় তিনি ও তনুর মা সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। তিনি এখন সরকার প্রধানের সঙ্গে দেখা করে তার মেয়ে হত্যার বিচার চাইতে চান। দেশের সব হত্যাকাণ্ডের বিচার হলেও তনু হত্যার বিচার না হওয়ায় তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করাতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তার বাবা।
দীর্ঘ সময় থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা এবং সিআইডি মামলাটি তদন্ত করলেও কোনো রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি। এরপর ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এনএন/ ৬ এপ্রিল ২০২৬









