জাতীয়

সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে ভারত সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

দিল্লী, ৬ এপ্রিল – বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো ভারত সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। দুই দেশের মধ্যে টেকসই রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক আস্থার ক্ষেত্র তৈরি করতে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। আগামী ৭ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এই সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে তাঁর আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

কূটনৈতিক মহলের মতে, যেকোনো দেশের শান্তি ও উন্নয়নের জন্য প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক জরুরি। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। সে সময় সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভারতবিরোধী মন্তব্যে দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক তিক্ততা তৈরি হয়। ওই মেয়াদে ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাসপোর্টের মান কমে যাওয়া এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দৃশ্যমান কোনো কূটনৈতিক সাফল্য আসেনি।

এমনকি গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকা ও দিল্লিতে নিযুক্ত দুই দেশের হাইকমিশনারদের পাল্টাপাল্টি তলবের মতো নজিরবিহীন ঘটনাও ঘটে। তবে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দুই দেশের সম্পর্কে বরফ গলতে শুরু করে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর ঢাকায় এসে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সমবেদনা জানান। পরবর্তীতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা অংশ নেন। এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একাধিকবার শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরেরও আমন্ত্রণ জানান। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত ২০ মার্চ ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর এবং শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর আগে গত ১ থেকে ৩ মার্চ বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের প্রধান মেজর জেনারেল কায়সার রশীদও ভারত সফর করেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারতের মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য। ইতোমধ্যে মৈত্রী পাইপলাইন দিয়ে ভারত থেকে জ্বালানি তেল আমদানি শুরু হয়েছে। বর্তমান সরকার সমমর্যাদা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাইছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের এই সফরের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এস এম/ ৬ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language