জাতীয়

সংবিধান ছুড়ে ফেলার কথা বলিনি, সংস্কার চেয়েছি: সংসদে জামায়াত আমির

ঢাকা, ৬ এপ্রিল – বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনোই দেশের সংবিধান ছুড়ে ফেলার কথা বলেনি, বরং তারা এর প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা সংস্কার চেয়েছে। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা স্পষ্ট করেছেন দলটির আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, জামায়াত কোনোভাবেই সংবিধানবিরোধী নয়। তবে সংবিধানের যেসব সুযোগ দেশে ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে, সেসব বিষয়ের পরিবর্তন অপরিহার্য। সংবিধানের দোহাই দিয়ে আর কাউকে ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনতে দেওয়া হবে না এবং ফ্যাসিবাদের চিরস্থায়ী কবর রচনা করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছর ধরে জামায়াতের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি বর্তমান সংসদের সবাইকে মজলুম হিসেবে আখ্যায়িত করে জানান, তারা এমন একটি আগামীর বাংলাদেশ গড়তে চান যেখানে আইন ও সংবিধানের অপব্যবহার করে কেউ আর স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারবে না।

জুলাই অভ্যুত্থানের সনদকে কলিজার অংশ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা জুলাই অভ্যুত্থান, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং ভাষা আন্দোলনের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর কোনোটিকেই অস্বীকার করেন না। একই সঙ্গে কোনো বিতর্ক ছাড়াই গণভোট মেনে নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ফ্যাসিজমের সূচনা হয়েছিল এবং ওই সময় জামায়াত ও বিএনপির বহু নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

মব কালচার তৈরির দায় জামায়াতের ওপর চাপানোর চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, যে দলটির ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য অত্যাচার করা হয়েছে, যাদের শীর্ষ নেতাদের বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে এবং যাদের হাজারো কর্মীকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের ওপর এমন অপবাদ দেওয়া সংসদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।

তিনি আরও জানান, একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ কায়েম করার স্বার্থেই তারা সংবিধানের পরিবর্তন চান। নতুন বাংলাদেশ বলতে ভৌগোলিক সীমারেখা বা পতাকার পরিবর্তন নয়, বরং বৈষম্যহীন একটি সমাজ গঠনের কথা বোঝানো হয়েছে। গ্রামের প্রান্তিক মানুষ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতির বাসভবন পর্যন্ত সবাই যেন সাম্যের ভিত্তিতে সমান অধিকার পান এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ যেন পার না পান, এমন একটি রাষ্ট্র গঠনই তাদের একমাত্র চাওয়া।

এনএন/ ৬ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language