সেনা প্রত্যাহার ও যুদ্ধ বন্ধ না হলে অস্ত্র ছাড়বে না হামাস

জেরুজালেম, ৬ এপ্রিল – ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের নিশ্চয়তা ছাড়া নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না।
হামাসের সশস্ত্র শাখা ইজ্জাদ্দিন আল কাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবাইদা এক টেলিভিশন বিবৃতিতে এই অবস্থান পরিষ্কার করেন।
তিনি যুক্তি দেন যে হামাসকে নিরস্ত্র করার দাবি মূলত ইসরায়েলের গণহত্যা চালিয়ে যাওয়ার একটি কৌশল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত বোর্ড অব পিস পরিকল্পনার আওতায় হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি সম্প্রতি কায়রোতে মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।
হামাসের দাবি, যুদ্ধবিরতির সব শর্ত বাস্তবায়ন, ইসরায়েলি হামলা বন্ধ এবং গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের সুস্পষ্ট রূপরেখা থাকতে হবে। অন্যদিকে হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হলে সেনা প্রত্যাহারে রাজি নয় ইসরায়েল। ফলে দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
আবু উবাইদা জোর দিয়ে বলেন, পরিকল্পনার প্রথম ধাপ ইসরায়েল পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত অস্ত্রের বিষয়ে কোনো কথা হবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা পরিকল্পনায় হামাসের অস্ত্র ত্যাগের দাবিটি একটি বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭০৫ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং এক লাখ ৭২ হাজারেরও বেশি আহত হয়েছে।
এছাড়া লেবাননে ইসরায়েলের নতুন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আবু উবাইদা। তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য ইরান, হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথিদের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলি পার্লামেন্টে ফিলিস্তিনিদের জন্য পাস হওয়া নতুন মৃত্যুদণ্ড আইনেরও নিন্দা জানান তিনি।
রোববার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭১৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক হাজার ৯৬৮ জন আহত হয়েছেন। গাজায় দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলি অভিযানে বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজা পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে।
এনএন/ ৬ এপ্রিল ২০২৬









