জাতীয়

১৫ টাকা কেজি দরে চাল পাচ্ছে ৫৫ লাখ পরিবার, সংসদে খাদ্যমন্ত্রী

নীলফামারী, ৫ এপ্রিল – হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে বড় পরিসরে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে সরকার। বর্তমানে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৪৯৫টি উপজেলায় ৫৫ লাখ পরিবারকে প্রতি মাসে মাত্র ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের অষ্টম দিনে নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ওবায়দুল্লাহ সালাফীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে এটি উত্থাপিত হয়।

খাদ্যমন্ত্রী জানান, বছরে ছয় মাস এই চাল বিতরণ করা হয়। এর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ১০ লাখ টন চালের সংস্থান রাখা হয়েছে। এছাড়া দরিদ্র মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ পুষ্টিচাল বিতরণ করা হচ্ছে। বর্তমান অর্থবছরে ২৪৮টি উপজেলায় ৫ মাসব্যাপী প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার টন পুষ্টিচাল সরবরাহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বাজারদর নিয়ন্ত্রণে ওএমএস বা খোলা বাজারে বিক্রি কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ১২টি সিটি কর্পোরেশন, ১৪টি শ্রমঘন জেলা এবং ৫২টি জেলা সদরের ১ হাজার ৯১টি কেন্দ্রের মাধ্যমে সুলভ মূল্যে খাদ্যশস্য বিক্রি করা হচ্ছে। ওএমএসের মাধ্যমে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা, খোলা আটা ২৪ টাকা এবং ২ কেজির প্যাকেট আটা ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন এই কর্মসূচির আওতায় বিপুল পরিমাণ চাল ও আটা বিক্রি করা হচ্ছে।

চালের ঊর্ধ্বমূল্য ঠেকাতে বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় ৪১৮টি উপজেলার ৮৩৬টি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিদিন ৪০৬ টন চাল ৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারীদেরও চাল দিচ্ছে খাদ্য অধিদপ্তর। বর্তমানে ৬৭ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৭টি পরিবারের মধ্যে প্রতি মাসে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। খাদ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, হতদরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজারমূল্য সহনীয় রাখার লক্ষ্যে এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

এস এম/ ৫ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language