মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করলেন মা, কারণ হিসেবে টানলেন ইলন মাস্ককে

ওয়াশিংটন, ৫ এপ্রিল – যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে নিজ কিশোরী মেয়েকে হত্যার চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দিয়েছেন এক মা। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে তিনি যে অদ্ভুত কারণ দেখিয়েছেন তা জনমনে ব্যাপক বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। গত ২০ মার্চ ৪১ বছর বয়সী টাইয়াস অনিনস্কি নিজেই পুলিশকে ফোন করে জানান যে আগের রাতে তিনি তার ১৪ বছর বয়সী মেয়ে কুরেন রেইনকে হত্যা করেছেন। প্রায় ১৩ মিনিটের ওই ফোনকলে তিনি অত্যন্ত শান্ত কণ্ঠে পুরো ঘটনার বিবরণ দেন।
পুলিশ বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি জানান মেয়ের জন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন নেই কারণ সে আগেই মারা গেছে। বরং তিনি নিজের জন্য অ্যাম্বুলেন্সের আবেদন করেন কারণ তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। হত্যার কারণ সম্পর্কে ওই নারী দাবি করেন, মেয়েকে কারো হাত থেকে রক্ষা করতেই তিনি এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ পর্যায়ে তিনি সরাসরি বিখ্যাত মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের নাম উল্লেখ করেন।
তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট বা যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে। ফরেনসিক পরীক্ষায় অভিযুক্ত নারীর শরীরে এমফিটামিন ও টিএইচসিসহ বিভিন্ন মাদকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ঘটনার পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে অনিনস্কি জানতে চান তিনি কোনো সংবাদে এসেছেন কি না যা পুরো ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তোলে।
এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি ইচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ১০ লাখ ডলারের নগদ বন্ডে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। আগামী ১৪ এপ্রিল তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। নিহত কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এই মর্মান্তিক ঘটনা তাদের জন্য অকল্পনীয় শোকের। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার খরচ ও পরিবারের সহায়তায় ইতোমধ্যে একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে।
এস এম/ ৫ এপ্রিল ২০২৬









