মধ্যপ্রাচ্য

ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বাড়ছে যুদ্ধবিরোধী ক্ষোভ ও অর্থনৈতিক সংকট

তেহরান, ৫ এপ্রিল – ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার প্রভাব কেবল রণাঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতেও গভীর রেখাপাত করেছে। একদিকে যেমন রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের আতঙ্ক বিরাজ করছে, অন্যদিকে তেমনি সাধারণ মানুষ যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। তেল আবিবসহ বিভিন্ন বড় শহর এখন যুদ্ধবিরোধী স্লোগানে উত্তাল। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসরায়েলের ইতিহাসে বহু যুদ্ধের নজির থাকলেও এবারের পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে সরকারের প্রতি জনগণের ক্ষোভ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুদ্ধ বন্ধ এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে দেশটিতে দফায় দফায় ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

শনিবার তেল আবিবের রাস্তায় শত শত বিক্ষোভকারী সমবেত হয়ে যুদ্ধবিরোধী প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল বোমা নয় আলোচনা চাই এবং এই অন্তহীন যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ইসরায়েলের তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠন স্ট্যান্ডিং টুগেদারের সহপরিচালক অ্যালন লি গ্রিন জানান, তারা ইরান, লেবানন ও গাজায় চলমান সমস্ত যুদ্ধ বন্ধের জোরালো দাবি জানাচ্ছেন। এই সংঘাত সাধারণ ইসরায়েলিদের দৈনন্দিন জীবনেও মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। জ্বালানি, খাদ্য ও পরিবহনসহ সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের আয় কমে গেছে। দিনরাত সাইরেনের শব্দ আর বাঙ্কারে সময় কাটানোর কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। একটি ড্রোন বা রকেট আঘাত হানার আগেই সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে, যার ফলে পুরো শহরের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা এমন পরিস্থিতির কারণে মানুষের মধ্যে চরম মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকটও প্রবল আকার ধারণ করেছে। যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রতি সপ্তাহে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে।

এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মুদ্রার মানের ওপরও। এমন শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে বহু ইসরায়েলি নাগরিক দেশ ত্যাগ করছেন। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় এক লাখ মানুষ ইসরায়েল ছেড়ে গেছেন। নিরাপত্তাহীনতা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকেই দেশত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অনেকেই মিশর সীমান্তকে দেশ ছাড়ার নিরাপদ পথ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। তাবা ক্রসিং দিয়ে যাতায়াত ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ফ্লাইটের সংখ্যা সীমিত হয়ে যাওয়ায় মানুষ বিকল্প পথের সন্ধান করছেন। তবে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে ইসরায়েল সরকারের বরাতে ভিন্ন একটি তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, চলমান সংঘাতের মধ্যেই প্রায় ২০ হাজার ইহুদি নিজ দেশে ফিরে এসেছেন। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এটি স্পষ্ট যে, চলমান যুদ্ধ ইসরায়েলের অভ্যন্তরে গভীর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দিয়েছে।

এস এম/ ৫ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language