মধ্যপ্রাচ্য

মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে আইআরজিসির ব্যাপক হামলার দাবি

তেহরান, ৫ এপ্রিল – ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি বাহরাইনের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালানোর দাবি করেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স ও নৌবাহিনীর প্রতিশোধমূলক অভিযানের পঁচানব্বইতম দফায় এই ব্যাপক এবং বহুমুখী হামলা চালানো হয়। অপারেশন ট্রু প্রমিজ ফোর এর অংশ হিসেবে পরিচালিত এই হামলায় আইআরজিসির উন্নত প্রযুক্তির হজ কাসেম, খাইবার শেকান এবং ক্বদর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন হিমার্স রকেট ব্যাটারি এবং উত্তর বাহরাইনে মোতায়েন করা মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এই অভিযানের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল। এছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন হিমার্স লঞ্চার ইউনিট, কমান্ড সেন্টার, সামরিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা ওরাকলের স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালানোর দাবি করা হয়েছে। আইআরজিসির তথ্যমতে একটি সমন্বিত নৌ হামলায় বাহরাইনের খলিফা বিন সালমান বন্দরে তৃতীয় পক্ষের পতাকাবাহী ইসরায়েলি বাণিজ্যিক জাহাজ এমএসসি ইশিকা সফলভাবে আক্রান্ত হয়েছে।

একইসাথে ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের একাধিক স্থানে ক্বদর মাল্টি ওয়ারহেড ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে শক্তিশালী হামলা চালানো হয়। গত আটাশে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকে আইআরজিসি তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই আগ্রাসনের জবাবে অঞ্চলটি জুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের হামলায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিশেষ করে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে গত সাতাশে মার্চের হামলায় মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি ই থ্রি সেন্ট্রি অ্যাওয়াকস কমান্ড ও কন্ট্রোল প্লেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, জর্ডান এবং কুয়েতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর রাডার ব্যবস্থা, থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রিপার ড্রোন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এস এম/ ৫ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language