কুমিল্লার মাধাইয়া-কৈলাইন সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে ৪ লাখ মানুষ

কুমিল্লা, ৫ এপ্রিল – কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া থেকে কৈলাইন পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তিন উপজেলার চার লক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘ এক দশক পার হলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির দৃশ্যমান কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাধাইয়া বাজার থেকে শুরু হওয়া এই সড়কটির অবস্থা বর্তমানে এতটাই শোচনীয় যে মাত্র দশ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে প্রায় এক ঘণ্টা। পুরো সড়ক খানাখন্দে ভরে থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা দুর্ঘটনা এবং উল্টে যাচ্ছে ছোটবড় অনেক যানবাহন।
ভাঙাচোরা এই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের যেমন মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে ঠিক তেমনি যানবাহনেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। চান্দিনা উপজেলার অন্তত আটটি ইউনিয়নের মানুষ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বরুড়া ও কচুয়া উপজেলার বিপুল সংখ্যক বাসিন্দা নিয়মিত এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। ফলে এই রাস্তার বেহাল দশা বৃহত্তর ওই এলাকার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায় রাস্তার বিভিন্ন অংশে বড় ধরনের অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে যার কোনো কোনোটি প্রায় দুই ফুটেরও বেশি গভীর। শুকনো মৌসুমে এই রাস্তায় ধুলাবালির কারণে শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং বর্ষাকালে পুরো সড়ক কাদামাটিতে একাকার হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিও চরমে পৌঁছেছে। দোল্লাই নবাপুর ডিগ্রি কলেজ এবং মহিচাইল কলেজসহ আশেপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান যে জনপ্রতিনিধিরা বছরের পর বছর ধরে কেবল আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। অন্যদিকে যানবাহন চালকরা জানান প্রতিদিন তাদের গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। কখনো গাড়ির বেয়ারিং আবার কখনো এক্সেল বা স্প্রিং ভেঙে যাচ্ছে বলে তাদের উপার্জনের একটি বড় অংশই মেরামতের কাজে ব্যয় করতে হচ্ছে। এই দুর্দশার বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম জানান যে সড়কটির সংস্কার কাজের জন্য ইতিমধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। সড়কের কিছু অংশে প্রাথমিক কাজও শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করার বিষয়েও আশা প্রকাশ করেন।
এস এম/ ৫ এপ্রিল ২০২৬









