ইসলাম

ছোট পাপকেও তুচ্ছ মনে করা উচিত নয়, পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ

ঢাকা, ৫ এপ্রিল – বাংলা ভাষায় ‘গুনাহ’ শব্দটি অত্যন্ত পরিচিত হলেও এর মূল উৎস ফারসি। বাংলায় এটিকে সাধারণত ‘পাপ’ বলা হয়। বাংলা অভিধান অনুযায়ী এর অর্থ অন্যায়, কলুষ বা দুষ্কৃতি। অন্যদিকে আরবি ভাষায় গুনাহ বা পাপ বোঝাতে আল ইছম, আল খাত্বা, আল খাত্বিয়াহ, আল মাসিয়াহ, আল জুর্ম, আয যান্ব ইত্যাদি বিভিন্ন পরিভাষা ব্যবহার করা হয়। এসব শব্দের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকলেও মূল কথা হলো মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের আদেশ অমান্য করা বা তাঁদের নিষেধ করা কোনো কাজে লিপ্ত হওয়া।

এই অবাধ্যতা প্রকাশ্যে বা গোপনে, যেভাবেই হোক না কেন, তা গুনাহ হিসেবে পরিগণিত হয়। একজন মুমিনের জন্য সব সময় নিজের মনকে পাপমুক্ত রাখার চেষ্টা করা অত্যন্ত জরুরি। কোরআনে ইউসুফ আলাইহিস সালামের একটি উক্তি উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে মানুষের মন স্বভাবতই মন্দের দিকে ধাবিত হয়। তবে মহান আল্লাহ যার প্রতি দয়া করেন, সে এর ব্যতিক্রম। তাই মানুষের অন্তরকে পাপের কালিমা থেকে মুক্ত রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। গুনাহ ছোট বা বড় যেমনই হোক, তাকে কখনোই তুচ্ছ বা নগণ্য মনে করা উচিত নয়। বরং পরকালের শাস্তির ভয় করে তা থেকে দূরে থাকা আবশ্যক।

হাদিস শরিফে এসেছে, একজন প্রকৃত মুমিন তার গুনাহকে একটি বিশাল পর্বতের মতো ভারী মনে করে, যা যেকোনো সময় তার ওপর ধসে পড়তে পারে। বিপরীতে, একজন পাপিষ্ঠ ব্যক্তি তার গুনাহকে নাকের ডগায় বসা মাছির মতো অতি তুচ্ছ মনে করে। অন্য একটি হাদিসে ছোট ছোট গুনাহ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এগুলো একসময় স্তূপাকার হয়ে মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। গিবত, হিংসা, আমানতের খেয়ানত, মা বাবার অবাধ্যতা, মিথ্যাচার বা কুদৃষ্টির মতো কাজগুলো পাপ জেনেও অনেক সময় মানুষ এগুলোতে জড়িয়ে পড়ে এবং এর জন্য সামান্যতম অনুশোচনাও বোধ করে না।

ঈমানি দুর্বলতা ও পরকালের জবাবদিহির অভাবের কারণেই মানুষ এসব পাপকে তুচ্ছজ্ঞান করে। ইমাম গাজালি রহমাতুল্লাহি আলাইহির মতে, ছোট ছোট গুনাহ জমতে জমতে একসময় তা বড় গুনাহে পরিণত হয় এবং মানুষের ঈমান হরণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইমাম ইবনে কায়্যিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, গুনাহের কারণে মানুষ ইলম বা জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হয় এবং তার রিজিক কমে যায়।

পাপী ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে প্রচণ্ড একাকিত্ব অনুভব করে। সাহাবিরা ছোট কোনো ভুল করলেও তা থেকে মুক্তির জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠতেন। আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, বর্তমান যুগের মানুষ অনেক কাজকে চুলের চেয়েও নগণ্য মনে করে, অথচ রাসুলের যুগে সেগুলোকে ধ্বংসাত্মক মহাপাপ হিসেবে গণ্য করা হতো।

আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার রাবিয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে একটি অপছন্দনীয় কথা বলে অনুতপ্ত হয়েছিলেন এবং প্রতিশোধ নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনায় রাবিয়াহ আবু বকরের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

এস এম/ ৫ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language