শ্রীবরদীতে ট্রাংকের ভেতর নারীর মরদেহ: হত্যার দায় স্বীকার করে স্বামী-স্ত্রীর জবানবন্দি

শেরপুর, ৪ এপ্রিল – শেরপুরের শ্রীবরদীতে একটি ট্রাংকের ভেতর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ডলি আক্তার নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল আসামি মো. নিয়ামুর নাহিদ ও তার স্ত্রী মোছা. রিক্তা মনিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আদালতে তারা হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। টাকার দর কষাকষি নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে আসামিরা স্বীকার করেছেন।
শনিবার দুপুরে শেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রযুক্তির সহায়তায় এই হত্যারহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হয়েছে।
পিবিআই জানায়, গত ১ এপ্রিল সকালে শ্রীবরদী উপজেলার তাঁতীহাটি নয়াপাড়া ঢালীবাড়ী মোড়ে একটি ট্রাংকের ভেতর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর অর্ধগলিত বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে প্রযুক্তির মাধ্যমে নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত ডলি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার মো. আলাল মিয়ার মেয়ে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. শফিকুল ইসলাম শফিক বাদী হয়ে শ্রীবরদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই জামালপুরের একটি চৌকস দল।
শুক্রবার তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে মরদেহ বহনকারী পিকআপটি ভেলুয়া থেকে উদ্ধার করা হয় এবং চালক আশরাফ আলীকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে শেরপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভাতশালা থেকে প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্ত ও আসামিদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নিহত ডলি আক্তার গাজীপুরের ভালুকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। অন্যদিকে আসামি নাহিদ ও রিক্তা মনি শ্রীপুরে ভাড়া বাসায় থেকে টেক্সটাইলে কাজ করতেন।
গত ৩০ মার্চ রাতে নাহিদ তার স্ত্রী বাসায় না থাকার সুযোগে ডলি আক্তারকে অনৈতিক কাজের কথা বলে নিজ বাসায় নিয়ে যান। সেখানে টাকার অঙ্ক নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ডলি চিৎকার শুরু করলে জানাজানির ভয়ে নাহিদ তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে নাহিদ বিষয়টি তার স্ত্রীকে জানান এবং দুজনে মিলে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ট্রাংকে ভরে পিকআপে করে শ্রীবরদীতে ফেলে আসেন।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আব্দুস সালাম, এসআই মো. ফয়জুর রহমানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
জবানবন্দি শেষে আসামিদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এনএন/ ৪ এপ্রিল ২০২৬









