সংবিধান কেবল শেখ হাসিনার লেখা একটি কাগজ: ফরহাদ মজহার

ঢাকা, ৪ এপ্রিল – বিএনপি নেতারা কথায় কথায় সংবিধানের কথা বলেন, তবে এই সংবিধান কেবল শেখ হাসিনার লেখা একটি কাগজ ছাড়া আর কিছুই নয় বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার। তিনি দাবি করেন, সরকার গঠনের দুই মাসের মাথায় গ্রামের অধিকাংশ মানুষ সরকারবিরোধী অবস্থানে চলে গেছে।
শনিবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।রাজনৈতিক চিন্তাধারা বিনিময়ের প্ল্যাটফর্ম ভাববৈঠকী ‘সামাজ্রবাদী জায়ানবাদী আগ্রাসন এবং ইরানের প্রতিরোধের রণকৌশল’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের টানা দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধান সংস্কারের ৪৮টি বিষয়ের ওপর সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিন গণভোট আয়োজনের কথা বলেছে। অন্যদিকে রাষ্ট্র সংস্কারে গ্রহণ করা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আন্দোলনে নেমেছে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতার আনা মুলতবি প্রস্তাবে প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে বুধবার তারা ওয়াক আউট করে। এদিন ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিরোধী জোট। জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস শুক্রবার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ করবে এবং ২৪ এপ্রিল ঢাকায় গণসমাবেশের কর্মসূচি নিয়েছে।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে ফরহাদ মজহার বলেন, বিএনপির অনেক নেতা নেত্রী দেশের জনগণকে কেবল ভোটার মনে করেন এবং বারবার সংবিধানের দোহাই দেন। অথচ এই সংবিধান শেখ হাসিনার লেখা একটি কাগজ। এই কাগজ দেখিয়ে জনগণকে বোকা বানানোর সুযোগ নেই।
তিনি জানান, গণসার্বভৌম মানে জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক।
বাংলাদেশের গ্রামীণ মানুষদের চেতনাগত রূপান্তর এসেছে উল্লেখ করে এই বিশ্লেষক বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে তিনি অবাক হয়েছেন। তারা এখন প্রশ্ন তুলছে যে ভোট হয়ে যাওয়ার পরও কেন বিএনপি বারবার সংবিধানের কথা বলছে। গ্রামের মানুষদের মধ্যে একধরনের নতুন সচেতনতা তৈরি হয়েছে এবং তারা নিজেদের নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রধান কারিগর ভাবতে শুরু করেছে।
অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কেবল মোল্লাদের যুদ্ধ। কিন্তু এটি মূলত জায়নবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই। মাতৃভূমি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব। তাই এই যুদ্ধকে আধ্যাত্মিক ও বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আমরা এমন এক সভ্যতার বিরুদ্ধে লড়ছি যা জলবায়ু ও গ্রহীয় বিপর্যয় তৈরি করে পৃথিবীকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।
মোহাম্মদ রোমেলের সঞ্চালনায় এই আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, ইরানের আল মুস্তাফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. শাহাবুদ্দিন মাশায়েখি এবং ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর সৈয়দ রেজা মীর মোহাম্মদী।
এনএন/ ৪ এপ্রিল ২০২৬









