উত্তর আমেরিকা

ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় ব্যাপক রদবদলের গুঞ্জন, ঝুঁকিতে গ্যাবার্ড ও লুটনিক

ওয়াশিংটন, ৪ এপ্রিল – অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে বরখাস্ত করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মন্ত্রিসভায় আরও বড় ধরনের রদবদলের পরিকল্পনা করছেন।

হোয়াইট হাউজের অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ে অবগত কয়েকটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মূলত ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক রাজনৈতিক প্রভাব এবং এর ফলে ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান বিরক্তিই সম্ভাব্য এই রদবদলের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ওপর। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ নিয়েও দলের অভ্যন্তরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ এনে হোয়াইট হাউজের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন ট্রাম্প।

বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ট্রাম্পের টেলিভিশন ভাষণটি জনমনে আশানুরূপ প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রশাসনে পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দৃশ্যমান পদক্ষেপ হিসেবে বড় কোনো রদবদল ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।

সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, পাম বন্ডি এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমকে অপসারণের পর এবার ডিরেক্টর অফ ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স তুলসি গ্যাবার্ড এবং কমার্স সেক্রেটারি হাওয়ার্ড লুটনিকের পদ চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গ্যাবার্ডের কর্মকাণ্ডে ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং তার বিকল্প নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, হাওয়ার্ড লুটনিকের বিরুদ্ধে প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে পুরোনো সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

২০১২ সালে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে লুটনিকের উপস্থিত থাকার তথ্য ফাঁস হওয়ার পর ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের একাংশ তাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। যদিও হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল দাবি করেছেন যে মন্ত্রিসভার ওপর ট্রাম্পের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং তিনি বরখাস্তের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বুধবারের ভাষণে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট সমাপ্তির পথ দেখাতে পারেননি। বরং অর্থনৈতিক সংকটের জন্য তেহরানকে দায়ী করেছেন। রয়টার্স ও ইপসোসের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বর্তমানে তার মেয়াদের সর্বনিম্ন ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রায় ৬০ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধের বিপক্ষে মত দিয়েছেন।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঘন ঘন পরিবর্তন এনে প্রশাসনে বিশৃঙ্খলার বার্তা দিতে চান না তিনি। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলো সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তার স্পষ্ট বার্তা, পাম বন্ডিই শেষ ব্যক্তি নন যাকে বিদায় নিতে হচ্ছে।

এনএন/ ৪ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language