আইন-আদালত

অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচার মামলা: তৃতীয় দফায় রিমান্ডে সাবেক এমপি মাসুদ

ঢাকা, ৪ এপ্রিল – সাবেক সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আলোচিত সেনা কর্মকর্তা এবং ফেনী ৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে তৃতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিন্ডিকেট করে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং মানবপাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

শনিবার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই মো. রায়হানুর রহমান আসামিকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে আগের রিমান্ডগুলোতে সম্পূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তজা ইবনে ইসলাম রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি আদালতকে জানান এই আসামি এক এগারোর কুশীলবদের অন্যতম এবং টাকার লোভে সিন্ডিকেট করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তিনি উল্লেখ করেন ৭২ বছর বয়সি এই আসামি শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং তাকে হয়রানি করার জন্যই বারবার রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ২৩ তারিখ বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরদিন পাঁচ দিন ও পরবর্তীতে ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী জাতীয় পার্টির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পল্টন থানায় মামলাটি দায়ের করেন আফিয়া ওভারসিজের স্বত্বাধিকারী আলতাব খান। এই মামলায় সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদসহ মোট ১০৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয় যে, জনশক্তি রপ্তানিতে দুই হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্ট থাকলেও মামলার আসামিরা সিন্ডিকেট করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করেছেন। তৎকালীন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ তার স্ত্রীর বড় ভাইয়ের ছেলেকে বিধিবহির্ভূতভাবে প্রবাসী নামে একটি অ্যাপ চালু করার অনুমোদন দিয়ে এই চক্রকে সহযোগিতা করেছিলেন। এছাড়াও তৎকালীন সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীনে তার ছেলেকে সিন্ডিকেট চক্রের সদস্য হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা ভয়ভীতি ও বলপ্রয়োগ করে মানবপাচারের উদ্দেশ্যে মাথাপিছু দেড় লাখ টাকা করে ৮৪১ জনের কাছ থেকে মোট ১২ কোটি ৫৬ লাখ ১ হাজার টাকা চাঁদা হিসেবে আদায় করে। একইভাবে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

এনএন/ ৪ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language