এশিয়া

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: গোপনে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বালানি সরবরাহের অভিযোগ চীনের বিরুদ্ধে

বেইজিং, ৪ এপ্রিল – গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে ইরানও পাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের এই ধারাবাহিক হামলায় পুরো অঞ্চলে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি ইরান বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে যে, চীন গোপনে ইরানকে সামরিক সহায়তা প্রদান করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি চীন থেকে রাসায়নিক বহনকারী কয়েকটি জাহাজ ইরানে পৌঁছেছে। এই ঘটনাকে শুধু সাধারণ বাণিজ্যিক সরবরাহ হিসেবে না দেখে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক কৌশলের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা অন্তত চারটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ দেশটির বন্দরে পৌঁছেছে। চীনের ঝুহাই শহরের গাওলান বন্দর থেকে ছেড়ে আসা এসব জাহাজ মূলত রাসায়নিক পদার্থ পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এই জাহাজগুলোতে বিপুল পরিমাণ সোডিয়াম পারক্লোরেট রয়েছে, যা কঠিন জ্বালানিভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রধান উপাদান।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানিকৃত এই কাঁচামাল দিয়ে শত শত নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা সম্ভব, যা ইরানের বর্তমান সামরিক শক্তি বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে যে, ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এখনো সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে। কাঁচামাল আমদানির এই নতুন চালান প্রমাণ করে যে, হামলায় আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হলেও ইরানের অস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হয়নি। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান শিপিং লাইন গ্রুপের জাহাজগুলো নজরদারি এড়াতে নানাবিধ কৌশল অবলম্বন করেছে।

জাহাজগুলোর স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বা এআইএস বন্ধ রাখা, ভুয়া গন্তব্য প্রদর্শন এবং নাম পরিবর্তনের মতো আধুনিক কৌশল ব্যবহার করায় আন্তর্জাতিক নজরদারি অনেকটাই ব্যর্থ হচ্ছে। দ্য টেলিগ্রাফ আরও জানিয়েছে যে, গোলবান ও জাইরান নামের দুটি জাহাজের পরিবহন ক্ষমতা অনুযায়ী ইরান অন্তত ৭৮৫টি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির মতো কাঁচামাল হাতে পেয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলেও তারা আরও প্রায় এক মাস এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে।

যদিও চীন সরাসরি সামরিক সহায়তার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে, তবে বাণিজ্যিক মোড়কে এই ধরনের কৌশলগত সহায়তা অব্যাহত রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, রাশিয়ার ক্ষেত্রেও চীন একই ধরনের দ্বৈত নীতি গ্রহণ করেছিল। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে বেইজিংয়ের বিশাল বিনিয়োগ থাকায় এই পরিস্থিতি সামলানো চীনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এস এম/ ৪ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language