জাতীয়

তিন অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশে ক্ষুব্ধ টিআইবি, সংসদে পাসের দাবি

ঢাকা, ৪ এপ্রিল – সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ এবং পৃথক সচিবালয় সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ বাতিল ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ স্থগিতের সুপারিশে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এই তিনটি অধ্যাদেশ হুবহু বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের দাবি জানিয়েছে।

একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং তথ্য অধিকারবিষয়ক স্থগিত হওয়া অন্য অধ্যাদেশগুলো অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে দ্রুত আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে যে কয়েকটিতে দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ ছিল, তার মধ্যে এই তিনটি অন্যতম। এগুলো বাতিল বা স্থগিত করার মাধ্যমে সরকার কী বার্তা দিতে চায়, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনি ইশতেহারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিগত কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে বিচার বিভাগ কতটা কলুষিত হয়েছিল, তা এত দ্রুত ভুলে যাওয়া খুবই হতাশাজনক।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একটি কার্যকর মানবাধিকার কমিশন গঠনের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। মানবাধিকার কমিশন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিধানের অভাবে জনজীবন কতটা বিপর্যস্ত হতে পারে, তা নীতিনির্ধারকদের অজানা নয়। এই অবস্থানকে সব রাজনৈতিক দলের জন্য আত্মঘাতী বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো যাচাই বাছাইয়ের নামে আটকে দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে যদি জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বা জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে দুর্বল করা হয়, তবে তা দেশে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশের বিষয়ে তিনি বলেন, দুদক সংস্কার কমিশনের যেসব সুপারিশে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছিল, সেগুলোর আলোকে অধ্যাদেশটি সংশোধন করে বিল আকারে উত্থাপন করা প্রয়োজন।

পুলিশের ক্ষেত্রে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুলিশ কমিশন গঠনের ওপরও জোর দেন তিনি। এছাড়া দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে কার্যকর তথ্য কমিশন গঠনের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টিকে এখনই আইনে রূপ না দেওয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। সম্প্রতি সংসদে দেওয়া প্রতিবেদনে ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু এবং ১৫টি সংশোধন করে বিল আকারে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে।

এনএন/ ৪ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language