কক্সবাজার

কক্সবাজারে হামের প্রাদুর্ভাব, মৃ*ত্যু বেড়ে ৪

কক্সবাজার, ৩ এপ্রিল – কক্সবাজারে হামের প্রাদুর্ভাবে নতুন করে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে বৃহস্পতিবার ভোর এবং সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে স্থাপিত বিশেষ হাম ইউনিটে ওই দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

মারা যাওয়া দুই শিশুর মধ্যে একজন রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকার আজিজুল হকের সাত মাস বয়সী মেয়ে রৌশনী। অন্যজন মহেশখালীর ছোট মহেশখালী এলাকার নাসিরের নয় মাস বয়সী মেয়ে জেসিন। এর আগে মহেশখালী উপজেলার হিরা মনি নামের সাত মাস বয়সী আরেক শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়া আরও একটি শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেলেও তার বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মোট চার শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মারা যাওয়া শিশু রৌশনীর মা মরিয়ম বেগম জানান তার জমজ দুই মেয়ে।

হঠাৎ তাদের জ্বর ও সর্দি দেখা দিলে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হয়। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ওষুধ সেবনের পরও অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। এরপর তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ঈদের পরদিন থেকে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় এক সন্তানের মৃত্যু হয় এবং অপর সন্তান এখনও জ্বরে ভুগছে। চিকিৎসকদের মতে হামে আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে আনতে দেরি করার কারণে রোগের জটিলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

হাম আক্রান্ত রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড এবং বিশেষ নার্সিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হাম ইউনিটে ৪২ জন এবং কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালে আরও ৫ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ৪৭ জন রোগীর ভর্তি থাকা পরিস্থিতির ভয়াবহতার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশেষ করে মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি, শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলি এবং রুমালিয়ারছড়া এলাকায় আক্রান্তের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানিয়েছেন হাম প্রতিরোধে সঠিক সময়ে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। শিশুর ৯ মাস এবং ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ টিকা নিশ্চিত করা গেলে এই প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

এস এম/ ৩ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language