প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন গবেষক ড. শাকিরুল ইসলাম

ঢাকা, ২ এপ্রিল – আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষক এবং শিক্ষাবিদ ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খানকে সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন। বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অন্যান্য সকল পেশা, ব্যবসা এবং সরকারি, আধাসরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে কর্মসম্পর্ক ত্যাগের শর্তে তিনি এই পদে যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা তাঁর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে এই নিয়োগ বহাল থাকবে। ড. শাকিরুল ইসলাম খান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র এবং শিক্ষক। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষাদান ও গবেষণায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। বর্তমানে তিনি জাপানের ওইতা ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি অফ মেডিসিনের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে ফুল ফ্যাকাল্টি হিসেবে কর্মরত। এছাড়া তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেন্টার ফর গ্লোবাল অ্যান্ড লোকাল ইনফেকশাস ডিজিজ এর সাথেও যুক্ত আছেন।
এর আগে তিনি জাপানের এহিমে ইউনিভার্সিটি এবং মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে ড. শাকিরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কর্মসূচি ও নীতি নির্ধারণী কাজে সহায়তা করবেন। পাশাপাশি তিনি নির্দেশনানুযায়ী বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচির তদারকির দায়িত্বও পালন করবেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং মেধা দিয়ে তিনি সরকারের কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। উন্নয়নশীল দেশের জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বিশেষ করে ডেঙ্গু, বার্ড ফ্লু, হেপাটাইটিস, কোভিড ১৯, জলাতঙ্ক এবং নিপাহ ভাইরাসের মতো উদীয়মান সংক্রামক ব্যাধি নিয়ে তিনি নিবিড় গবেষণা করেছেন। মানসম্পন্ন পোলট্রি ও গবাদি পশু উৎপাদন এবং সংরক্ষণের বিষয়েও তিনি কাজ করেছেন। জাপানে অবস্থান করলেও তাঁর গবেষণার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মানের পিআর রিভিউ জার্নালে তাঁর দেড় শতাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।
শিক্ষাজীবনে ড. শাকিরুল ইসলাম খান অসাধারণ কৃতিত্বের অধিকারী। ২০০০ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং ২০০৪ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে তিনি শিক্ষকতায় যুক্ত হন। পরবর্তীতে জাইকা স্কলার হিসেবে জাপানের এহিমে ইউনিভার্সিটি থেকে ২০০৬ সালে স্নাতকোত্তর এবং ২০০৯ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। উভয় ক্ষেত্রেই তিনি অসামান্য ফলাফল লাভ করেন।
এস এম/ ২ এপ্রিল ২০২৬









