জাতীয়

বগুড়া ও জামালপুর নৌরুটে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের জোরালো দাবি

ঢাকা, ১ এপ্রিল – ঢাকা ও রংপুর মহাসড়কে যানজট কমানো এবং উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য দ্রুত সরবরাহের লক্ষ্যে বগুড়া ও জামালপুর নৌরুটে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। এই সেতু নির্মিত হলে এ অঞ্চলে ব্যবসা ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। একইসঙ্গে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে শিক্ষা এবং চিকিৎসা সেবাপ্রত্যাশীদের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে। বগুড়া এবং জামালপুরবাসীর শত বছরের এই স্বপ্ন পূরণ হলে বিদ্যমান প্রথম যমুনা সেতুর ওপর যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমে যাবে।

বর্তমানে সিরাজগঞ্জ হয়ে ১৮৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিকল্প হিসেবে ময়মনসিংহ যাতায়াত করতে হয়। তবে এই নৌপথে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মিত হলে সড়কপথে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে যাবে। জানা যায়, ১৯৩৮ সালে তিস্তামুখ থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ রেলঘাট পর্যন্ত নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যা ও নদীভাঙনের কারণে যমুনা নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়। এর ফলে ফেরি সার্ভিসটি গাইবান্ধার বালাসী ঘাটে স্থানান্তর করা হয়।

এরপর থেকে বগুড়ার সারিয়াকান্দির কালিতলা নৌঘাট থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ নৌরুটে নৌকার মাধ্যমেই যাত্রীরা যাতায়াত করছেন। ২০২২ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের একটি প্রতিনিধি দল সারিয়াকান্দির কালিতলা ঘাট থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জের জামথল ঘাট পর্যন্ত সেতু নির্মাণের জন্য ট্রাফিক সার্ভে সম্পন্ন করে। সম্প্রতি সেতু বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে সেতু নির্মাণের জন্য ৩টি সম্ভাব্য রুটের ওপর সমীক্ষা চালানোর তথ্য উঠে আসে।

ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী তানভীর হাসান জানান, বগুড়া থেকে নৌকায় করে ময়মনসিংহ যাতায়াত করা অত্যন্ত কষ্টকর। সেতু নির্মিত হলে এই দুর্ভোগ লাঘব হবে। বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইরুল ইসলাম মনে করেন, এই সেতু উত্তরাঞ্চল ও ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যে বাণিজ্যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। বগুড়া ১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম জানান, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে লাখো মানুষের সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি কৃষকদের ব্যাপক উন্নয়ন হবে। জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে কথা বলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু যেন বগুড়াতেই নির্মিত হয় তা এই অঞ্চলের মানুষের শত বছরের প্রত্যাশা। রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্ব এই দাবি পূরণে এগিয়ে আসবেন বলে স্থানীয়রা জোরালো আশা প্রকাশ করেছেন।

এস এম/ ১ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language