প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত দক্ষিণ কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়া

সিউল, ১ এপ্রিল – মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে দেশ দুটি সম্মত হয়েছে। বুধবার সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিয়ং এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো সুবিয়ান্তোর মধ্যে অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সম্মেলন শেষে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে উভয় দেশের শীর্ষ নেতারা নিজেদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি যুদ্ধবিমান, প্রশিক্ষণ বিমান এবং ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাসহ যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলোতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এই চুক্তির আওতায় জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং অন্যান্য সম্পদের সরবরাহ শৃঙ্খলে সহযোগিতা আরও গভীর করবে দেশ দুটি।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই সময়ে ইন্দোনেশিয়াকে প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট। তাঁর সরকারের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছর দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রায় আট লাখ বিশ হাজার টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করবে। বিপুল পরিমাণ এই গ্যাস দিয়ে দেশটির সব গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রায় ১২ দিন সচল রাখা সম্ভব।
এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি কেএফ ২১ সুপারসনিক যুদ্ধবিমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই দেশের যৌথ সহযোগিতায় নেতারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ইন্দোনেশিয়াকে অংশীদার করে এই বিশেষ কর্মসূচিটি ২০১৫ সালে শুরু হয়েছিল। সম্প্রতি এই যুদ্ধবিমানগুলোর প্রথমটি উন্মোচন করা হয়। জানা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়া প্রাথমিকভাবে ১৬টি যুদ্ধবিমান ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানি করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
এস এম/ ১ এপ্রিল ২০২৬









