ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে ডিএমপির বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান শুরু

ঢাকা, ১ এপ্রিল – রাজধানী ঢাকায় পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এবং জনদুর্ভোগ কমাতে বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আজ বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ রেস্টুরেন্ট, ওয়ার্কশপ এবং স্থায়ী স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা।
মঙ্গলবার ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মহানগরের আটটি ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে রমনা থেকে শুরু হয়ে এই অভিযান গুলশানে গিয়ে শেষ হবে।
একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত এই কার্যক্রমে সড়কের পাশে অবৈধভাবে দোকান পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, প্রভাবশালী কিছু ব্যবসায়ীর অবৈধ দখলদারিত্বের কারণে সৃষ্ট তীব্র যানজট নিরসনেই এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান জানান, এই অভিযান কোনোভাবেই সাধারণ হকারদের বিরুদ্ধে নয়। যেসব অসাধু ব্যবসায়ী সড়কের ওপর রেস্টুরেন্টের রান্নাঘর বা স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে জনগণের চলাচলের পথ দখল করেছেন, মূলত তাদের বিরুদ্ধেই এই ব্যবস্থা।
তিনি আরও জানান, যারা বৈধ সীমার বাইরে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন তাদের উচ্ছেদ করা হবে। তবে সাধারণ হকারদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নির্ধারিত এলাকায় খুব শিগগিরই হলিডে ও নাইট মার্কেট চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৩ মার্চ ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল যে, মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় রেস্টুরেন্ট, যানবাহনের ওয়ার্কশপ, আসবাবপত্র ও পোশাকের দোকান তাদের কার্যক্রম ফুটপাত এবং সড়কে সম্প্রসারণ করেছে। এর ফলে পথচারীদের চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং কৃত্রিম যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অনেক মোটরগাড়ির ওয়ার্কশপ ফুটপাত ও সড়কের একটি লেন সম্পূর্ণ দখল করে গাড়ি মেরামতের কাজ করে। ফলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছেন।
ডিএমপি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যারা অবৈধভাবে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন তাদের অবিলম্বে নিজেদের মালামাল সরিয়ে নিতে হবে। নির্দেশ অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এনএন/ ১ এপ্রিল ২০২৬









