জাতীয়

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে মাঠে সক্রিয় থাকবে ছাত্রশিবির: নূরুল ইসলাম

ঢাকা, ১ এপ্রিল – জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের দাবিতে মাঠে সক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।

তিনি অভিযোগ করেছেন যে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা এবং দেশের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ মানুষের সরাসরি ম্যান্ডেটকে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে নস্যাৎ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। অসংখ্য রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ আজ খোদ স্বাক্ষরকারী দল বিএনপির হাতেই জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। রাজপথের লড়াইয়ের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়কে আইনি মারপ্যাঁচে নস্যাৎ করার কোনো হীন চক্রান্ত এ দেশের ছাত্র ও জনতা মেনে নেবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

মঙ্গলবার ৩১ মার্চ ছাত্রশিবিরের মাসিক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট বৈঠক ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এই বৈঠকে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মার্চ মাসের কার্যক্রমের রিপোর্ট পর্যালোচনা করা হয় এবং এপ্রিল মাসের জন্য নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সভায় সেক্রেটারিয়েট সদস্যদের ব্যক্তিগত ও বিভাগীয় রিপোর্ট অঞ্চলভিত্তিক শাখাগুলোর রিপোর্ট ক্যাম্পাস পরিস্থিতি ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণসহ আগামী দিনের করণীয় নির্ধারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন যে ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর অধিকাংশ দলের সম্মতিতে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং ১৩ নভেম্বরের রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে দেশের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ মানুষ এই সনদের পক্ষে তাদের ঐতিহাসিক রায় প্রদান করে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া মানেই জনগণের এই সরাসরি রায়কে অগ্রাহ্য করার লাইসেন্স পাওয়া নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাস্তবায়নে সরকারের এই গড়িমসি মূলত জনগণের ম্যান্ডেটের সাথে স্পষ্ট বিশ্বাসঘাতকতা বলে তিনি দাবি করেন।

সরকারের দ্বিমুখী আচরণের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন সরকার এখন মানবাধিকার কমিশন পুলিশ কমিশন গুম প্রতিরোধ কমিশন এবং বিচার বিভাগ পৃথক করার মতো ১৫টি মৌলিক সংস্কারের অধ্যাদেশ বাতিল বা সংশোধন করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় দলীয়করণের পুরোনো ছকে নিয়ে যেতে চাচ্ছে।

বিচারপতি নিয়োগের স্বচ্ছ বাছাই কমিটি ও সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত করার মাধ্যমে পুনরায় বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাঁয়তারা চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

নির্বাচনের আগে দলীয় প্রধান কর্তৃক হ্যাঁ ভোটের প্রচার চালিয়ে এখন সেই রায়কেই অস্বীকার করা রাজনৈতিক দেউলিয়া পনা ছাড়া আর কিছুই নয়।

বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনমত গঠন এবং সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এনএন/ ১ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language