পার্থের বক্তব্যের সমালোচনা করে সংসদে সরব হাসনাত আবদুল্লাহ

ঢাকা, ১ এপ্রিল – জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংবিধান প্রসঙ্গে ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্য এবং তাতে সরকারদলীয় সদস্যদের সমর্থনের তীব্র সমালোচনা করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
মঙ্গলবার একটি মূলতবি প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ সমালোচনা করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আন্দালিব রহমান পার্থ তার বক্তব্যে যারা সংবিধান ছুড়ে ফেলতে চায়, তাদের স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এ সময় সামনের সারিতে বসা মন্ত্রীরা টেবিল চাপড়ে তাকে সমর্থন জানিয়েছেন। অথচ গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন লড়াই করা বেগম জিয়া বলেছিলেন, যেদিন জনতার সরকার প্রতিষ্ঠা হবে, সেদিন এই সংবিধান ছুড়ে ফেলা হবে।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, সামনের সারিতে থাকা অনেক মন্ত্রী দীর্ঘদিন বেগম জিয়ার সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। সংবিধান ছুড়ে ফেলার বক্তব্যকে স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে মিলিয়ে যে হাততালি দেওয়া হয়েছে, তার মাধ্যমে বেগম জিয়াকে অপমান করা হয়েছে কি না, তা তাদের ভেবে দেখা উচিত।
পার্থের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ৭২ এর সংবিধানের কিছু বিষয়ে পার্থ সম্মান দেন, অর্থাৎ কিছু বিষয়ে দেন না। এটি একটি সুবিধাবাদী অবস্থান। কখনো সাংবিধানিক আবার কখনো অসাংবিধানিক অবস্থান চলতে পারে না।
তিনি দাবি করেন, বর্তমান সংবিধান পুরোপুরি মেনে নিলে অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ প্রসঙ্গেও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তিনি জানতে চান, ৬ আগস্ট ৬৪ বিধি অনুযায়ী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের সময় কোন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিল। ওই দিনের শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বা তখনকার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হক উপস্থিত ছিলেন কি না এবং সেই রায়ের কপি কোথায়, তা প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ৬ আগস্ট ছাত্র ও জনতার রায় ছিল তাকে আর এক মুহূর্তও কারাগারে রাখা যাবে না। রাষ্ট্রপতির আদেশ এবং জনরায়ের ভিত্তিতেই তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন। সংবিধানকে চূড়ান্ত মানদণ্ড ধরলে সেদিন তার মুক্তি সম্ভব হতো না। তিনি কেবল গণঅভ্যুত্থানের জনরায়ের ভিত্তিতেই বের হয়েছেন।
সুবিধাবাদী আচরণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যেখান থেকে সুবিধা পাওয়া যায়, কেবল সেই অংশটুকুই মানা হয়। গ্রামের প্রবাদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদী পার হওয়ার পর মাঝির আর কোনো গুরুত্ব থাকে না।
এনএন/ ১ এপ্রিল ২০২৬









