জাতীয়

বার্মিংহামে যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলাদেশের ৫৫তম স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপিত

যুক্তরাজ্য, ৩১ মার্চ – যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী বার্মিংহামে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশের ৫৫তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্‌যাপিত হয়েছে।

বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন বার্মিংহামের উদ্যোগে গত সোমবার, ৩০ মার্চ, সন্ধ্যায় আয়োজিত এই কূটনৈতিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানটি প্রবাসীদের এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে রাজা চার্লসের প্রতিনিধি লর্ড লেফটেন্যান্ট ডেরিক এন্ডারসন সিবিই।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন পেরি বার এলাকার সংসদ সদস্য আইয়ুব খান, ওয়েস্ট ব্রোমউইচের এমপি সারাহ কুম্বেস, বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলের লর্ড মেয়র কাউন্সিলর জাফর ইকবাল, সলিহাল মেট্রোপলিটন কাউন্সিলের মেয়র কাউন্সিলর এনেট ম্যাকের্জি এবং ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের পুলিশ ও ক্রাইম কমিশনার সাইমন ফোস্টারসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে রোমানিয়ার কনসাল জেনারেল মাহায়েলা সাভু, পাকিস্তানের কনসাল জেনারেল ফাহাদ আমজাদ এবং ভারতের কনসাল জেনারেল ড. ভেঙ্কটাচালাম মুরুগান উপস্থিত ছিলেন।

পাশাপাশি প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্যের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বার্মিংহামে নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার সুজন দেবনাথ তার স্বাগত বক্তব্যে উপস্থিত সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান।

এরপর তিনি প্রধান অতিথিকে সঙ্গে নিয়ে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ হামিদকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রদান শেষে অতিথিদের নিয়ে কেক কাটার মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্ব ছিল বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে নির্মিত একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন। এটি উপস্থিত বিদেশি কূটনীতিক ও অন্য অতিথিদের মধ্যে গভীর আগ্রহের জন্ম দেয়। প্রধান অতিথি ডেরিক এন্ডারসন তার বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫তম বার্ষিকীতে দেশবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

তিনি উল্লেখ করেন যে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। একই সঙ্গে আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও নিবিড় ও দৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সার্বিকভাবে প্রাণবন্ত পরিবেশ এবং দেশাত্মবোধে পরিপূর্ণ এই আয়োজন প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের তাদের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।

এ এম/ ৩১ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language