যুক্তরাজ্য

সমাজসেবায় অসামান্য অবদান: রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে এমবিই সম্মাননা পাচ্ছেন বাংলাদেশি আবু তাহের

ব্রিটেন, ৩১ মার্চ – সমাজসেবা ও দাতব্য কার্যক্রমে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাজ্যের রাজার পক্ষ থেকে মেম্বার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার বা এমবিই সম্মানে ভূষিত হতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ বাংলাদেশি আবু তাহের। আগামী ১৩ মে রাজা তৃতীয় চার্লস তার রাজকীয় বাসভবন উইন্ডসর ক্যাসেলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে এই সম্মাননা প্রদান করবেন। ইতোমধ্যে এমবিই হিসেবে তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

লন্ডনপ্রবাসী আবু তাহের মূলত একজন বিশিষ্ট ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা, সাহিত্যিক এবং পেশাদার হিসাবরক্ষক। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও মানবিক উদ্যোগেও তার অনস্বীকার্য অবদান রয়েছে। তার পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার বুধবারীবাজার ইউনিয়নের চন্দরপুর গ্রামে। তার পিতার নাম মরহুম মক্তার আলী এবং মাতার নাম মরহুমা মাছুমা খাতুন। সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগী আবু তাহের ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

ছড়া, কবিতা, প্রবন্ধ ও নাটক রচনায় সমান দক্ষ এই লেখকের সৃষ্টিকর্মে প্রবাসজীবন, মানবতা, সমাজসচেতনতা এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গভীর প্রতিফলন দেখা যায়। তার প্রকাশিত বই ও প্রচারিত নাটকের সংখ্যা দশের অধিক। ব্রিটেনে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের ব্রিটিশ বাংলাদেশি তরুণদের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে তিনি প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছেন। ১৯৮৭ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানোর পর আবু তাহের একজন পেশাদার হিসাবরক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

১৯৯৯ সালে পূর্ব লন্ডনে তিনি মাহি অ্যান্ড কো সার্টিফাইড প্র্যাকটিসিং অ্যাকাউন্ট্যান্টস নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পেশাগত দক্ষতা এবং সততার মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক পরামর্শ ও সেবা দিয়ে আসছেন। তিনি ইনস্টিটিউট অব সার্টিফাইড প্র্যাকটিসিং অ্যাকাউন্ট্যান্টসের একজন ফেলো সদস্য। পাশাপাশি তিনি ব্রিটেনের সংহতি সাহিত্য পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনের তিনি প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং বর্তমানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের মাধ্যমে আবু তাহের সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি ভিশন কেয়ার ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষুসেবা ও চিকিৎসা পরিচালিত হচ্ছে। মাছুমা মেমোরিয়াল ট্রাস্টের মাধ্যমে তিনি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা প্রদান করছেন। এছাড়া টি-ফাইভ টেইলরিং ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার ক্ষেত্রেও তিনি অবদান রাখছেন।

বাংলাদেশের শিক্ষাখাতেও তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। তিনি সিলেটের গোলাপগঞ্জে অবস্থিত আল ইমদাদ ডিগ্রি কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয় ব্রিজ অ্যাকাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। দেশে তার একটি স্বপ্নের প্রকল্প হলো হ্যাভেন কেয়ার হোম, যেখানে বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষদের জন্য সুরক্ষিত আশ্রয় গড়ে তোলার কাজ চলছে। এমবিই প্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করে আবু তাহের জানান, তার কাজের মূল লক্ষ্য সবসময়ই ছিল মানুষের কল্যাণ, সংস্কৃতির বিকাশ এবং প্রজন্মের মধ্যে মূল্যবোধের সেতুবন্ধন তৈরি করা।

তিনি বিশ্বাস করেন যে সফলতা কেবল ব্যক্তিগত অর্জনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোতেই প্রকৃত সার্থকতা নিহিত। তার স্ত্রী মিতা তাহের বিলেতের সুপরিচিত কণ্ঠশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক এবং দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তিনি বর্তমানে লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

এ এম/ ৩১ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language