ইরানে গুপ্তচরবৃত্তির প্রমাণ মিললে মৃত্যুদণ্ড ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

তেহরান, ৩১ মার্চ – ইরানের কোনো নাগরিক বা দেশটিতে বসবাসের অনুমোদনপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি যদি গুপ্তচরবৃত্তি কিংবা শত্রুপক্ষকে সহযোগিতা করেন এবং সেই অভিযোগ প্রমাণিত হয় তবে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের যাবতীয় সহায়সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে।
ইরানের বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র সম্প্রতি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও যদি কেউ শত্রুদের কোনো ধরনের সহযোগিতা করেন তবে সেটিকেও গোয়েন্দা সহায়তা হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে।
গত দুই দশক ধরে ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলমান রয়েছে। এই দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানা ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে। তবে কোনো ধরনের সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়।
এর পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে অপারেশন এপিক ফিউরি নামের একটি অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইসরায়েলও ইরানে অপারেশন রোয়ারিং লায়ন নামের সামরিক অভিযান পরিচালনা শুরু করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিসহ সামরিক ও সরকারি প্রশাসনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা নিহত হন। অন্যদিকে ইরানও এই হামলার সমানতালে পাল্টা জবাব দিচ্ছে।
যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি দেশ সৌদি আরব কাতার কুয়েত বাহরাইন সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত গুপ্তচরবৃত্তি বা শত্রুপক্ষকে গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে ইরানে এক হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইরানের বিচার বিভাগের ওই মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন গত বছর ইরানের পার্লামেন্টে একটি আইন পাস করা হয়েছে। ওই আইনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরকারকে সুনির্দিষ্টভাবে শত্রুপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এনএন/ ৩১ মার্চ ২০২৬









