মধ্যপ্রাচ্য

যুদ্ধ থামাতে জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের শর্ত দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

তেহরান, ৩১ মার্চ – ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে সবার আগে ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

সোমবার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে তিনি জানান, যুদ্ধের শুরু থেকে ইরানের সামরিক বাহিনী যে প্রতিরোধ এবং সাধারণ জনগণ যে ঐক্য দেখিয়েছে তা তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি বিশ্বাস করেন যে সামরিক বাহিনী এবং জনসাধারণের এই দেশপ্রেমিক অবস্থান নিকট ভবিষ্যতে যাবতীয় কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে ইরান যুদ্ধ চায় না এবং তারা এই সংঘাত শুরু করেনি। তবে এখন এই যুদ্ধ থামাতে হলে অবশ্যই ইরানের জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত দুই যুগ ধরে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দেশটির দ্বন্দ্ব চলছে। এসব ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চলেছিল। তবে কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই ওই সংলাপ শেষ হয়। ঠিক তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অপারেশন এপিক ফিউরি নামে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে অপারেশন রোয়ারিং লায়ন নামে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের প্রথম দিনেই খামেনিসহ ইরানের সামরিক ও সরকারি প্রশাসনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা নিহত হন।

অন্যদিকে সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরান। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে যাচ্ছে ইরানি বাহিনী।

উল্লেখ্য যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে মোট এক হাজার ৩৪০ জন নিহত হয়েছেন।

এনএন/ ৩১ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language