ইসলাম

কোরআন-হাদিসের আলোকে জীবনে রিজিক ও বরকত বৃদ্ধির উপায়

ঢাকা, ৩১ মার্চ – মহান আল্লাহ পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষার্থে মানুষকে আর্থিক দিক থেকে বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত করেছেন। সম্পদ কম বা বেশি হওয়াটা মূলত একটি পরীক্ষা। তবে আল্লাহর দয়া ও রহমত তাদের জন্যই নির্ধারিত, যারা তাঁর নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালনা করে। বর্তমান সমাজে ধনী ও গরিব অনেক মানুষই হতাশায় ভোগেন। প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সংকীর্ণতা ও ভবিষ্যতের অন্ধকার নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকেন। এর প্রধান কারণ হলো, রিজিক শুধু উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত এবং এর বরকত নির্ভর করে মানুষের দৈনন্দিন আমলের ওপর।

কোরআন ও হাদিসের আলোকে এমন কিছু আমলের কথা জানা যায়, যা জীবনে বরকত ও প্রশান্তি বয়ে আনে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ইস্তিগফার। ইস্তিগফার বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সঙ্গে রিজিকের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে তিনি ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি দিয়ে সাহায্য করেন। পাশাপাশি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করলে মানুষের দুশ্চিন্তা দূর হয় এবং জীবনে প্রশান্তি আসে। দান বা সদকা মানুষের সম্পদে সমৃদ্ধি আনে।

বাহ্যিকভাবে সদকা সম্পদ কমালেও এর মাধ্যমে সম্পদে বরকত বৃদ্ধি পায় এবং অপচয় কমে যায়। আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করাও রিজিক ও আয়ু বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অবলম্বনকারীদের জন্য অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকে রিজিক আসার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপন, বিশেষ করে সুরা ওয়াকিয়াহ নিয়মিত তিলাওয়াত করা অভাবমুক্তির একটি কার্যকর আমল।

মনে রাখা প্রয়োজন, রিজিক শুধু টাকার অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শান্তি, তৃপ্তি এবং সুস্থতাও রিজিকের অন্তর্ভুক্ত। চাকরি বা ব্যবসা শুধু মাধ্যম মাত্র, প্রকৃত দাতা একমাত্র মহান আল্লাহ। তাই ইস্তিগফার, দরুদ পাঠ, সদকা এবং তাকওয়াকে জীবনের অংশ করে নিলে জীবনে অকল্পনীয় বরকত নেমে আসতে পারে।

এস এম/ ৩১ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language