জ্বালানি তেল আমদানিতে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি বাংলাদেশের

ঢাকা, ৩১ মার্চ – রাশিয়া থেকে ছয় লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের অনুরোধ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক সংকটের এই সময়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার তেল আমদানিতে ভারতের মতো বিশেষ ছাড় বা স্যাংশন ওয়েভার পাওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গত ঈদের আগে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশ পক্ষ থেকে অন্তত দুই মাসের ডিজেল আমদানির অনুমতি চাওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়ার পরামর্শ পাওয়ার পর ঈদের পরদিনই সেই চিঠি পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ চিঠির উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।
রাশিয়া ছাড়াও অন্যান্য দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে সরকার।
ভারতের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী শুরুতে সরবরাহ কিছুটা ধীর থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। এ পর্যন্ত ভারত থেকে প্রায় ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাওয়া গেছে। পর্যায়ক্রমে আরও সরবরাহ আসার কথা রয়েছে।
এছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকে খুব শিগগিরই ৬০ হাজার মেট্রিক টনের দুটি কার্গো আসার কথা রয়েছে। বর্তমানে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো বিকল্প উৎসগুলো নিয়েও প্রতিনিয়ত আলোচনা চলছে।
ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও অ্যাঙ্গোলা থেকে এলএনজি পাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশ ভারত, পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়াকে সীমিতভাবে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগেই ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি নিয়েও সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ছাড়া অন্য জাহাজের চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এনএন/ ৩১ মার্চ ২০২৬









