ইরানের মাশহাদ বিমানবন্দরে মার্কিন হামলা, ব্যাহত হলো দিল্লির মানবিক সাহায্য

তেহরান, ৩১ মার্চ – ইরানের মাশহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি বেসামরিক বিমানের ওপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নয়াদিল্লি থেকে মানবিক সাহায্য সংগ্রহে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে ইরানি বিমান পরিবহন সংস্থা মাহান এয়ারের একটি বিমান এই হামলার শিকার হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথবাহিনীকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করে তেহরান জানিয়েছে, এই হামলার ফলে একটি পূর্বপরিকল্পিত মানবিক মিশন চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার জানিয়েছে, দিল্লি থেকে ওই বিমানটির ১১ টন মানবিক সাহায্য আনার কথা ছিল। এসব সামগ্রীর মধ্যে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও খাদ্যদ্রব্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই ঘটনার জেরে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে বলে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো উল্লেখ করেছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পরপরই ইরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় প্রায় ১৬ থেকে ১৭টি বাণিজ্যিক যাত্রী এবং পণ্যবাহী বিমান ধ্বংস হয়। ইসরায়েলের দাবি ছিল, ওই উড়োজাহাজগুলো গোপনে নিয়ন্ত্রণ করত ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি এবং কুদস ফোর্স। তাদের অভিযোগ, এসব উড়োজাহাজ ব্যবহার করে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস, আশাব আল-কাহ্ফ এবং ইয়েমেনের হুথির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ করা হতো।
তবে পশ্চিমা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত স্যাটেলাইট চিত্রে দাবি করা হয় যে, সেগুলো সাধারণ যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী বিমান ছিল।
বর্তমানে ইসরায়েল দাবি করছে, ইরানের সেনাবাহিনী এয়ার ইরান এবং মাহান এয়ারের মতো বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবহার করে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার জন্য অস্ত্র পরিবহন করছে।
উল্লেখ্য, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গত ১৮ মার্চ ইরানে প্রথম মানবিক সাহায্য পাঠিয়েছিল ভারত। সেই সাহায্যকে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেবারও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার ইরানের বাণিজ্যিক ফ্লাইটের মাধ্যমেই মানবিক সহায়তা প্রেরণ করেছিল।
এনএন/ ৩১ মার্চ ২০২৬









