ইরানে পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতির অভিযোগ, জাতিসংঘ দূতের পদত্যাগ

তেহরান, ৩০ মার্চ – জাতিসংঘে প্যাট্রিয়টিক ভিশন অর্গানাইজেশনের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহামাদ সাফা তার দীর্ঘ ১২ বছরের কূটনৈতিক জীবনের ইতি টেনেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি প্রকাশ্য পদত্যাগপত্রের মাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন যে, জাতিসংঘ ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সাফা তার বার্তায় উল্লেখ করেছেন, পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা সাধারণ মানুষ এখনো বুঝতে পারছে না। তেহরান প্রায় এক কোটি মানুষের একটি ঘনবসতিপূর্ণ শহর। এই তথ্য ফাঁস করার জন্য তিনি তার কূটনৈতিক ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক বিপর্যয় ঘটার আগেই তা ঠেকাতে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ বা নীরব সাক্ষী না হতেই তিনি তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তার অভিযোগ, জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তারা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী লবির স্বার্থ রক্ষায় ভিন্নমত দমন করছেন।
তিনি জানান, শীর্ষ কর্মকর্তারা গাজায় চলমান ঘটনাকে গণহত্যা, লেবাননের পরিস্থিতিকে যুদ্ধাপরাধ বা জাতিগত নির্মূলকরণ এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।
সাফা আরও দাবি করেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের চেষ্টা করায় তিনি নিজে এবং তার পরিবার একাধিকবার মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন।
তার মতে, ইরানের পারমাণবিক হুমকির বিষয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে বিশ্ববাসীকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি ঠেকাতে তিনি সাধারণ জনগণকে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মোহামাদ সাফা ২০১৩ সাল থেকে প্যাট্রিয়টিক ভিশন অর্গানাইজেশনের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের বিশেষ পরামর্শমূলক মর্যাদাপ্রাপ্ত এই সংস্থার স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সাফার এই চাঞ্চল্যকর দাবির আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হানান বালখিও একটি সাক্ষাৎকারে একই ধরনের শঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এমন একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার মতে, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে পারমাণবিক কোনো ঘটনা, যা তাদের সবচেয়ে বেশি চিন্তিত করছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের ঘটনা ঘটলে এর পরিণতি শুধু ওই অঞ্চলের জন্যই নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য কয়েক দশক ধরে স্থায়ী হবে এবং কোনো প্রস্তুতি দিয়েই এর ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব নয়।
এনএন/ ৩০ মার্চ ২০২৬








