জাতীয়

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রত্যাশা সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর

সচিবালয়, ৩০ মার্চ – সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এই সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান যে উন্নয়ন সহযোগিতা, কৌশলগত অংশীদারি এবং পারস্পরিক সম্মানের দিক থেকে চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। তিনি উল্লেখ করেন প্রযুক্তিগত দিক থেকে চীন অনেক এগিয়ে রয়েছে এবং বিশেষ করে স্মার্ট কার্ড প্রযুক্তিতে তারা বিশ্বের অন্যতম সফল দেশ।

বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড মূলত একটি ডেটাবেজ ভিত্তিক ডিজিটাল সামাজিক সুরক্ষা প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং নারীর ক্ষমতায়নে এই কার্ড পরিবারকেন্দ্রিক সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতে কাজ করবে। এই কর্মসূচিকে একটি স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় রূপ দিতে চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পাশাপাশি দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ে বসবাসকারী জনগণকে দক্ষ জনসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে দেশকে সামাজিকভাবে সুরক্ষিত করতে তিনি চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ইতিমধ্যে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

তিনি জানান যে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা খাতেও চীন বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করতে আগ্রহী। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করার মাধ্যমে চীন বাংলাদেশের স্থানীয় পর্যায়ের মানুষদের ভাগ্যের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চায়, যাতে এ দেশের জনগণ টেকসই স্বনির্ভরতার সুযোগ পায়।

রাষ্ট্রদূত আরও জানান যে চীনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যদি বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়নে কাজে লাগে, তবে বাংলাদেশের সমৃদ্ধি এবং জনগণের কল্যাণে চীন ফলপ্রসূ অংশীদার হিসেবে পাশে থাকতে ইচ্ছুক। সামাজিক সুরক্ষা খাতে চীন ও বাংলাদেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে বৈঠকে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ এম/ ৩০ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language