মুন্সিগঞ্জ

দেশজুড়ে বাড়ছে হামের প্রকোপ, মুন্সীগঞ্জে আক্রান্ত ২৬ ও প্রস্তুত স্বাস্থ্য বিভাগ

মুন্সিগঞ্জ, ৩০ মার্চ – চলতি বছর সারা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কেবল চলতি মাসেই প্রাণ হারিয়েছে ৩২ শিশু। দেশজুড়ে হামের এই ঝুঁকি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতিতে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কর্তৃপক্ষ জেলার সার্বিক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে তিনজন হামের রোগী ভর্তি রয়েছে। জেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৪৭ জন সন্দেহজনক হাম রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এর মধ্যে ১১ জনের শরীরে হামের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে এবং এপিডেমিওলজিক্যালি আরও ১৫ জন পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।

জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি থাকা তিনজন বাদে বাকিরা বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। স্বস্তির বিষয় হলো, এই জেলায় এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হামের সংক্রমণ মোকাবিলায় তাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে হামের চিকিৎসায় একটি বিশেষ আইসোলেশন কক্ষ এবং পাঁচটি বিশেষ শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. দেওয়ান নিজাম উদ্দিন আহমেদ নিশ্চিত করেছেন যে, ভর্তি থাকা রোগীদের জন্য এই বিশেষ আইসোলেশন কক্ষ ব্যবহার করা হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন কামরুল জমাদ্দার জানান, জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও হামে আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

জেলার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি রোগ এবং এটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং মস্তিষ্কের সংক্রমণ বা এনসেফালাইটিসের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। ডা. লুৎফুন্নেসা জানান, হামের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই, মূলত এর প্রভাবে তৈরি হওয়া জটিলতাগুলোরই চিকিৎসা করা হয়। এ সময় শিশুদের চোখের ক্ষতি রোধ করতে ভিটামিন এ এবং পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণত প্রতি চার বছর পরপর দেশে একটি বিশেষ হামের টিকা কর্মসূচি পরিচালিত হয়ে থাকে।

সর্বশেষ ২০২০ সালে এই কর্মসূচি পালিত হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে দেশের বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এই টিকা কর্মসূচি পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া গত বছর স্বাস্থ্য সহকারীদের ধর্মঘটের কারণে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি তিনবার ব্যাহত হয়। এর পাশাপাশি ভিটামিন এ ক্যাপসুল এবং কৃমিনাশক বড়ি খাওয়ানোর কর্মসূচি নিয়মিত না হওয়ায় শিশুদের সার্বিক পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ এতটা বেড়ে যাওয়ার পেছনে এসব কারণ বিশেষভাবে দায়ী।

এস এম/ ৩০ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language