শিশুদের মধ্যে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব, চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা

ঢাকা, ৩০ মার্চ – বর্তমানে শিশুদের মধ্যে রুবেলা বা হাম ভাইরাসের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। এটি একটি অতিমাত্রায় সংক্রামক রোগ যা হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সঠিক সময়ে টিকা না নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সচেতনতার অভাবে অনেক শিশু বর্তমানে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। হামে আক্রান্ত হলে সাধারণত শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর ও কাশি দেখা দেয়। সেই সঙ্গে নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ প্রকাশ পায়। সাধারণত জ্বরের চার দিনের মাথায় মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ উঠতে দেখা যায়।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন হাম শুধু একটি সাধারণ জ্বর নয়। এটি শিশুর স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সাময়িকভাবে নষ্ট করে দেয়। এর ফলে নিউমোনিয়া মারাত্মক ডায়রিয়া কানপাকা এবং মুখে ঘায়ের মতো নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। শরীরে ভিটামিন এ এর অভাব দেখা দিলে রাতকানা এমনকি অন্ধত্ব হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। কিছু ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের প্রদাহ বা মারাত্মক অপুষ্টির মতো দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিও হতে পারে। বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের নয় মাস এবং পনেরো মাস বয়সে দুই ডোজ এমআর টিকা দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে দেশের প্রায় ৮৮ শতাংশ শিশু এই টিকা গ্রহণ করেছে।
তবে যারা এখনো টিকা পায়নি বা আংশিক ডোজ নিয়েছে তাদের আক্রান্ত হওয়ার এবং অন্যদের মধ্যে রোগটি ছড়ানোর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বলে সতর্ক করা হয়েছে। শিশুর জ্বর বা র্যাশ দেখা দিলে অন্তত পাঁচ দিন তাকে অন্যদের কাছ থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। শ্বাসকষ্ট বারবার বমি খিঁচুনি বা চোখের মণি ঘোলা হয়ে গেলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এস এম/ ৩০ মার্চ ২০২৬









