জাতীয়

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের ভয়াবহ সংকট: পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের জরুরি পদক্ষেপ

ঢাকা, ৩০ মার্চ – যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সৃষ্ট বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মূল্য ৬৫ মার্কিন ডলার থাকলেও মাত্র ২৪ দিনের ব্যবধানে তা ১২০ ডলারে পৌঁছেছে। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এই মূল্য ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো গভীর সংকটে পড়েছে। স্টোরেজ সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে দেশে আপৎকালীন বিশাল মজুদ গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না।

এই প্রেক্ষাপটে গত ২৫ মার্চ সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে জ্বালানি সংকট নিয়ে একটি বিশেষ জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিলেও সরকার এখনই ঢালাওভাবে তেলের মূল্যবৃদ্ধির পক্ষে নয়। তবে বিমানের জন্য ব্যবহার্য জ্বালানির মূল্য ইতিমধ্যে সমন্বয় করা হয়েছে। এদিকে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী পেট্রল পাম্পের জ্বালানি তেল খোলাবাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১২টি দেশে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় এবং বিভিন্ন তেল শোধনাগারে হামলার ফলে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বৈশ্বিক তেল ও এলএনজি পরিবহন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ব্ল্যাকরকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ল্যারি ফিংক সতর্ক করে বলেছেন, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছালে বিশ্ব অর্থনীতি নিশ্চিতভাবেই মন্দার কবলে পড়বে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার আগামী তিন মাসের জন্য একটি বিশেষ আমদানি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

এর আওতায় এপ্রিল, মে এবং জুন মাসে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। বিশেষজ্ঞরা সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং রাশিয়া বা চীনের মতো বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানির ওপর জোর দিচ্ছেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সাময়িক উল্লেখ করে নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধারণ এবং জ্বালানি ব্যবহারে সর্বোচ্চ মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

এস এম/ ৩০ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language