মধ্যপ্রাচ্য

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ: এক মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল ৫৯ শতাংশ

তেহরান, ৩০ মার্চ – ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ এবং এর জেরে হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এক মাসে রেকর্ড ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা ব্রেন্ট ক্রুডের এই মূল্যবৃদ্ধিকে একটি অভূতপূর্ব ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারা জানান, ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর এত অল্প সময়ে জ্বালানি তেলের দাম এমন রেকর্ড পরিমাণ বাড়েনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের ঘাটতির কারণে নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ার কারণেই এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।

আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন চলাচলকারী তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ ব্যবহার করে। সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তেল রপ্তানির প্রধান মাধ্যম হওয়ায় একে জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা বলা হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি ঘোষণা দেয়, যুদ্ধ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের কোনো জাহাজ এই প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে না। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ ছয়টি দেশ ব্যাপক বিপাকে পড়ে। কারণ এসব দেশে স্থাপিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো যুদ্ধের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এসব দেশের তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়মিত সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের কোনো তেলবাহী জাহাজ যাতায়াত করছে না। এর পরিবর্তে তারা ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করছে। গত এক সপ্তাহে এই বন্দর থেকে প্রতিদিন ৪৬ লাখ ৫৮ হাজার ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা হয়েছে।

জেপি মর্গানের বিশ্লেষক নাতাশা কানেভা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুদ্ধের শুরুতে শুধু পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে ঝুঁকি থাকলেও এখন তা লোহিত সাগর এবং বাব আল মান্দেব প্রণালি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এই দুই নৌপথে ঝুঁকি আরও বাড়লে আগামীতে তেলের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।

এনএন/ ৩০ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language