কুমিল্লা

পদুয়ার বাজার দুর্ঘটনা: রেল ও সড়ক বিভাগের চরম অবহেলার প্রমাণ পেল তদন্ত কমিটি

কুমিল্লা, ৩০ মার্চ – কুমিল্লার পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিংয়ে বাস ও ট্রেনের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় ১২ জনের প্রাণহানির পর জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই তদন্ত প্রতিবেদনে একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে রেলওয়ে, সড়ক বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দায়িত্বে গাফিলতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

রোববার ২৯ মার্চ তদন্ত কমিটির প্রধান এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী জানান, তদন্তে অন্তত ছয়টি গুরুতর অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বেশ কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী জড়িত রয়েছেন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরও জানান, পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিংয়ের চার জন গেটম্যান, বিজয়পুর লেভেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যান, লালমাই রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার, ট্রেনের দুই জন লোকোমাস্টার, সংশ্লিষ্ট বাসচালক এবং সড়ক বিভাগের নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িতদের অবহেলা এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় লেভেলক্রসিং ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব ছিল। পাশাপাশি নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করা এবং দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য দেখা গেছে। সড়ক নির্মাণ বা সংস্কার কাজের কারণে সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলেও প্রয়োজনীয় কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তদন্ত কমিটি তাদের ১১ পৃষ্ঠার বিস্তারিত প্রতিবেদনে মোট আটটি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে লেভেলক্রসিং ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ি এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২১ মার্চ রাত তিনটার দিকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর জেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ফারুক আলম, ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মমিন, ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন এবং রেলওয়ের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা আসিফ খান চৌধুরী।

ইতিমধ্যে দুর্ঘটনার পর দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুই জন গেইটম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে।

এনএন/ ৩০ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language