গণভোট অধ্যাদেশ বিল আকারে পাসের প্রয়োজন নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা, ৩০ মার্চ – সদ্য সমাপ্ত গণভোট যে অধ্যাদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল তার কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাওয়ায় তা বিল আকারে সংসদে পাস করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।
রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
গণভোট অধ্যাদেশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে এই অধ্যাদেশের ব্যবহার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। যে কারণে এটি প্রণয়ন করা হয়েছিল সেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। এর অধীনে ভবিষ্যতে আর কোনো গণভোট হবে না। তাই একে পুনরায় অনুমোদন করে বিল আকারে আইনে পরিণত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
তিনি আরও জানান যে সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। সংসদ অধিবেশন বসার ত্রিশ দিনের মধ্যে এগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ করতে হয়। কিন্তু এই অধ্যাদেশের কাজ শেষ হওয়ায় এটি আর সংবিধানের অংশ থাকছে না।
বিশেষ কমিটির বৈঠক সম্পর্কে সালাউদ্দিন আহমেদ জানান যে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। অনেকগুলো অধ্যাদেশ বর্তমান অবস্থাতেই পাস করার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং কিছু সংশোধিত আকারে বিল হিসেবে আনা হবে। তবে সময়ের অভাবে আগামী ১০ তারিখের মধ্যে সব বিল আনা সম্ভব হবে না। অবশিষ্ট বিলগুলো পরবর্তী অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে।
কমিটির বৈঠকে বিরোধী ও সরকারি দলের সদস্যদের মতপার্থক্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান যে কয়েকজন সদস্য কিছু অধ্যাদেশের বিষয়ে ভিন্নমত বা নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছেন। প্রতিবেদনে তাদের বক্তব্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে। পরবর্তীতে বিল উত্থাপনের সময় সকল সদস্য তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাবেন। নির্ধারিত ত্রিশ দিনের সময়সীমা পার হলে অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তিনি জানান যে ওই সময়ের মধ্যে পাস না হওয়া বিলগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই কারণ পরবর্তী অধিবেশনে সেগুলো পুনরায় বিল আকারে নিয়ে আসা হবে।
সীমানা নির্ধারণ বা আরপিও এর মতো বিষয়গুলোর ভবিষ্যৎ প্রভাব থাকায় সেগুলোকে আইনে পরিণত করা হবে।
মানবাধিকার কমিশন বা পুলিশ অধ্যাদেশ সংক্রান্ত বিষয়গুলো আইন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন হওয়ায় এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বিস্তারিত জানাবেন। আগামী ২ এপ্রিল বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উত্থাপন করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
এনএন/ ৩০ মার্চ ২০২৬









