আনোয়ারায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির প্রথম দিনেই ৪০ বিদ্যালয়ে পৌঁছায়নি খাবার

চট্টগ্রাম, ২৯ মার্চ – সারাদেশের দরিদ্রপ্রবণ এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টিহীনতা দূর করতে সরকারিভাবে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের প্রথম ধাপে দেশের আট বিভাগের ৬২টি জেলার মোট ১৫০টি উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম জেলার একমাত্র উপজেলা হিসেবে মনোনীত হয় আনোয়ারা। এই কর্মসূচির আওতায় রোববার সকালে আনোয়ারা উপজেলার ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার বিতরণের উদ্বোধন করা হয়।
তবে কর্মসূচির প্রথম দিনেই উপজেলার প্রায় ৪০টি বিদ্যালয়ে খাবার না পৌঁছানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের মাঝে হতাশা দেখা দেয়। জানা গেছে শিক্ষার্থীদের সার্বিক পুষ্টিমান ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যালয় চলাকালীন প্রতিদিন পুষ্টিসমৃদ্ধ ফর্টিফাইড বিস্কুট, তরল দুধ, বন রুটি, সিদ্ধ ডিম এবং স্থানীয় মৌসুমি ফল বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। আনোয়ারা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী এই উপজেলার ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর এই সুবিধা পাওয়ার কথা।
কিন্তু প্রথম দিনে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে খাবার পৌঁছায়নি এবং কিছু বিদ্যালয়ে পৌঁছালেও তা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক দেরিতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান সকাল সাড়ে নয়টার মধ্যে খাবার পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু বিকেল চারটা পেরিয়ে ক্লাস শেষ হলেও অনেক স্কুলে খাবার পৌঁছায়নি। ফিডিং কর্মসূচির খবর পেয়ে অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে টিফিন আনেনি যার ফলে তাদের ক্ষুধায় কষ্ট পেতে হয়েছে।
খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দেওয়া নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে শিক্ষকরা জানান। পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অবহিত করা হয়। এই বিষয়ে খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বদেশপল্লীর ক্লাস্টার কোঅর্ডিনেটর মোহাম্মদ নাহিদ জানান খাবার পৌঁছানোর জন্য তারা কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ব্যবহার করেছিলেন।
কিন্তু গ্যাস সংকট এবং মাঝপথে গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে সব বিদ্যালয়ে সময়মতো খাবার পাঠানো সম্ভব হয়নি। প্রথম দিন হিসেবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যাটি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন এবং পরবর্তী দিন থেকে সব ঠিক হয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে আনোয়ারা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ হিন্দুল বারী জানান প্রায় ৪০টি স্কুলে খাবার না পৌঁছানোর অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি লিখিতভাবে চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসারকে জানানো হয়েছে এবং তিনি এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ এম/ ২৯ মার্চ ২০২৬









