তরুণদের মধ্যে বাড়ছে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি: নেপথ্যে নীরব ঘাতক লিপোপ্রোটিন

ঢাকা, ২৯ মার্চ – সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের মধ্যে আকস্মিক হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে থাকেন এবং তাদের রিপোর্টও স্বাভাবিক আসে। তা সত্ত্বেও তারা অপ্রত্যাশিতভাবে হৃদরোগের শিকার হচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে এর পেছনে লিপোপ্রোটিন নামের একটি উপেক্ষিত ঝুঁকি লুকিয়ে থাকতে পারে। সাধারণত হৃদযন্ত্রের সুস্থতা যাচাই করার জন্য এইচডিএল, এলডিএল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে এগুলো দিয়ে পুরো পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব নয়। লিপোপ্রোটিন হলো এমন এক ধরনের কোলেস্টেরল যা নীরবে রক্তনালির মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে এবং অল্প বয়সেই হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই উপাদানটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটি সম্পূর্ণ জিনগত। অর্থাৎ জন্ম থেকেই শরীরে এর উপস্থিতি নির্ধারিত হয়ে যায় এবং সারাজীবন এটি প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় থাকে।
শুধুমাত্র খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, ব্যায়াম অথবা ওজন নিয়ন্ত্রণের মতো প্রচলিত পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে এর মাত্রা খুব একটা কমানো সম্ভব হয় না। এর ফলে অনেক স্বাস্থ্যসচেতন মানুষও নিজেদের অজান্তে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যান। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে শরীরে লিপোপ্রোটিনের মাত্রা বেশি থাকলে রক্তনালিতে খুব দ্রুত চর্বি জমতে শুরু করে। পাশাপাশি প্রদাহ এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতাও বৃদ্ধি পায়। এর পরিণতি হিসেবে কোনো ধরনের পূর্বলক্ষণ ছাড়াই হার্ট অ্যাটাক অথবা স্ট্রোকের মতো গুরুতর ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
বিশেষ করে যাদের পেটে অতিরিক্ত মেদ রয়েছে, যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন অথবা যাদের জীবনযাপন অনিয়মিত তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও অনেক বেশি। এমনকি এলডিএল কোলেস্টেরল স্বাভাবিক মাত্রায় থাকলেও শরীরের ভেতরে নীরবে ক্ষতি চলতে থাকে। এ কারণে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে জীবনে অন্তত একবার হলেও লিপোপ্রোটিন পরীক্ষা করানো উচিত। বিশেষ করে ১৮ বছর বয়সের মধ্যেই এই পরীক্ষাটি করে নেওয়া ভালো। যদি কারও পরিবারে অল্প বয়সে হৃদরোগ, স্ট্রোক অথবা হঠাৎ মৃত্যুর কোনো ইতিহাস থাকে তবে দেরি না করে দ্রুত এই পরীক্ষাটি করানো অত্যন্ত জরুরি।
যদিও এই উপাদানের মাত্রা সরাসরি কমানো বেশ কঠিন একটি কাজ কিন্তু এর ঝুঁকিগুলো নিয়ন্ত্রণ করা পুরোপুরি সম্ভব। এজন্য এলডিএল কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।
শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে প্রয়োজনে ওষুধ সেবন করতে হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে হার্ট অ্যাটাক সবসময় হঠাৎ করে ঘটে না। অনেক ক্ষেত্রে শরীর আগে থেকেই বিভিন্ন সতর্ক সংকেত প্রদান করে। লিপোপ্রোটিন ঠিক তেমনই একটি নীরব ঝুঁকি যা একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব। সঠিক সচেতনতা থাকলে এই অদৃশ্য ঝুঁকিটিকেও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
এ এম/ ২৯ মার্চ ২০২৬









