হরমুজ প্রণালির সার্বভৌমত্ব দাবি ইরানের, জাহাজ থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনা

তেহরান, ২৯ মার্চ – যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে নতুন এক ভূরাজনৈতিক শর্ত সামনে এনেছে ইরান। তেহরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি চাইছে। একই সঙ্গে এই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে নিয়মিত টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে দেশটি। এর মাধ্যমে বছরে কয়েক শ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
দীর্ঘ দিন ধরে ইরান এই পথকে তাদের অন্যতম কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রধান দিনা এসফান্দিয়ারি মনে করেন, বিশ্ব অর্থনীতিকে চাপে রাখা কতটা সহজ ইরান তা বুঝতে পেরেছে এবং এখন তারা এটিকে আয়ের নতুন উৎস হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। ইরানের এমন পরিকল্পনাকে অবৈধ ও বিপজ্জনক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক হুঁশিয়ারিতে বলেন, আন্তর্জাতিক জলপথে এ ধরনের খবরদারি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তার প্রথম ভাষণে স্পষ্ট করেছেন যে, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তারা কোনোভাবেই হাতছাড়া করবেন না। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন এই পথ দিয়ে যাওয়া প্রতিটি বড় তেলবাহী ট্যাংকার থেকে যদি ২০ লাখ ডলার ফি নেওয়া হয় তবে ইরানের মাসিক আয় ৮০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন বিশেষজ্ঞ জেমস ক্রাসকা জানিয়েছেন, জলপথে টোল আদায়ের দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তা সত্ত্বেও কিছু জাহাজ নিরাপদ পারাপারের জন্য গোপনে অর্থ দিচ্ছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
এস এম/ ২৯ মার্চ ২০২৬









