মধ্যপ্রাচ্য

সৌদি আরবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের ই-৩ সেন্ট্রি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত

রিয়াদ, ২৯ মার্চ – সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি ই-৩ সেন্ট্রি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই উড়োজাহাজটি আগাম সতর্কতা পাঠানোর মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হয়।

এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম বা আওয়াকস হিসেবে পরিচিত এই উড়োজাহাজ শত শত মাইল দূর থেকে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান শনাক্ত করতে সক্ষম। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শুক্রবারের ওই হামলায় ১২ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে আহত সেনার সংখ্যা ১৫ জন। প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কমপক্ষে দুটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঝ আকাশে যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান ও নজরদারি উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহে এসব উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হয়।

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের এই সম্মিলিত হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অন্যতম বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে ১৩ মার্চ প্রকাশিত ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় মার্কিন বিমানবাহিনীর পাঁচটি রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সেগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়নি এবং উড়োজাহাজগুলোর মেরামতের কাজ চলছে। একই দিন মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড নিশ্চিত করেছিল, ইরাকের আকাশসীমায় একটি মার্কিন কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে উড়োজাহাজের ছয় ক্রুর সবাই নিহত হন। এছাড়া ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত একই ধরনের আরেকটি উড়োজাহাজ ইসরায়েলে জরুরি অবতরণ করে।

সেন্টকম দাবি করেছিল, শত্রুপক্ষ বা মিত্রপক্ষের গুলিতে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়নি। তবে ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স নামের একটি গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারা উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বর্তমানে আওয়াকস প্রযুক্তিসম্পন্ন একঝাঁক ই-৩এ উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে ন্যাটো। এগুলো সামরিক জোটের জন্য আকাশপথে নজরদারি, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল, যুদ্ধক্ষেত্র ব্যবস্থাপনা এবং যোগাযোগ রক্ষার কাজ করে থাকে। বোয়িং-৭০৭ উড়োজাহাজের পরিবর্তিত এই সংস্করণগুলো সহজেই চেনা যায়। এগুলোর মূল কাঠামোর ওপর একটি স্বতন্ত্র গম্বুজাকৃতির রাডার বসানো থাকে।

এই উড়োজাহাজগুলোতে রয়েছে দূরপাল্লার রাডার এবং প্যাসিভ সেন্সর, যা অনেক দূর থেকেই আকাশ ও ভূপৃষ্ঠের যেকোনো লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম। সংগৃহীত তথ্যগুলো সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় তাৎক্ষণিক স্থল, জল বা আকাশপথে থাকা অন্য ব্যবহারকারীদের কাছে পাঠানো সম্ভব। ন্যাটোর এই আওয়াকস বহরটি জার্মানিতে অবস্থিত ন্যাটো এয়ারবর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল ফোর্স দ্বারা পরিচালিত হয়।

এনএন/ ২৯ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language