মধ্যপ্রাচ্য

লোহিত সাগরে হুতিদের নতুন হামলার শঙ্কা: বিশ্ব বাণিজ্যে বড় বিপর্যয়ের হাতছানি

গাজা সিটি, ২৮ মার্চ – গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে ইসরায়েলের ওপর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা খুব একটা ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম হয়নি। কারণ এই হামলাগুলো মূলত বিক্ষিপ্ত ছিল এবং বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্রই আকাশে থাকা অবস্থাতেই ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। তবে এর কয়েক মাস পর ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে।

ইসরায়েলের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে হুতিদের একটি ড্রোন তেল আবিবের একটি আবাসিক ভবনে সরাসরি আঘাত হানে। ওই হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান। ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হুতিদের এই পুনর্নবীকৃত হামলা দেশটির জন্য নতুন করে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে এটি ইসরায়েলের জন্য খুব বড় কোনো সামরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে না।

তবে হুতিরা যদি লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন করে তাদের আক্রমণ শুরু করে তবে তার বৈশ্বিক প্রভাব হবে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। বর্তমানে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালির সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করছে। এই বন্দর দিয়ে একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় চল্লিশ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল রপ্তানি করা হচ্ছে। এশিয়ার বাজারগুলোর উদ্দেশ্যে পাঠানো এই তেলের জাহাজগুলোকে ইয়েমেনের পাশ ঘেঁষে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হতে হয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৩ সালের নভেম্বর মাস থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের প্রথম দিক পর্যন্ত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজে প্রায় দুই শতাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ত্রিশটিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া তারা অন্তত একটি জাহাজ ছিনতাই করতেও সক্ষম হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল মানদাব প্রণালি এবং সুয়েজ খাল দিয়ে জাহাজ চলাচলের হার প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে ইরান যদি কৌশলগত কারণে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় এবং একই সাথে হুতিরা লোহিত সাগরের রুটটিও অবরুদ্ধ করে রাখে তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। বিশ্বের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথের এমন যুগপৎ অচলাবস্থা গোটা বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

এ এম/ ২৮ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language